জৈন্তাপুরে ৫ ইউনিয়নে প্রচারণায় নেমেছে ৩০৩ প্রার্থী

জৈন্তাপুরে ৫ ইউনিয়নে প্রচারণায় নেমেছে ৩০৩ প্রার্থী

সিলেট অফিস: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় নেমেছেন ৩০৩জনপ্রার্থী। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩২ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৫৫জন নারী সাধারণ ওয়ার্ডে ২১৬জন পুরুষপ্রার্থী।
এর আগে শুক্রবার উপজেলা নির্বাচন অফিসার কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটানিং কর্মকর্তারা ২নং জৈন্তাপুর, ৩নং চারিকাটা, ৪ নং দরবস্ত, ৫নং ফতেপুর ও ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ও সাধারণ ওয়ার্ডের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন। এসময় নিজ নিজ ইউনিয়ন পরিষদের স্ব-স্ব প্রার্থীদের সঙ্গে তাদের সমর্থকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেক ইউনিয়নের প্রার্থী-সমর্থকদের মনে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দেয়। ওইদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া চলে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হাসনাত জানান, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বৈধ ৩০৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে।প্রতীক বরাদ্দের পর পর প্রত্যেক প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে প্রচার প্রচারণা ও গণ সংযোগ চালাতে পারবেন।যদি কোন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধির লঙ্ঘিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
তিনি আরো বলেন, জৈন্তাপুরের ইতিহাসে কখনো ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষ হয়নি, আশাকরি এবারও হবে।
আগামী ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। আর এই ভোট গ্রহণকে সামনে রেখে পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদের ভোটাদের মধ্যে বিভিন্ন আলোচনা ও কৌতুহলের শেষ নেই। ১২ নভেম্বর ছিল মনোয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। শেষ দিনে ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের ৩২ জন চেয়ারম্যান পদ প্রার্থীদের মধ্যে কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন নি।সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য ইব্রাহীম আলী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা আবুল হাসনাত জানান, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৩২ জনপ্রার্থী।
২নং জৈন্তাপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুর রাজ্জাক রাজা, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাবেক ছাত্রলীগের সদস্য মো. আবদুল হাই, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবদুল আহাদ ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. আলমগীর হোসেন এবং স্বতন্ত্রপ্রার্থী নুরুল ইসলাম, মো. ফখরুল ইসলাম ও হোসেইন আহমেদ এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ১৩ জন , সাধারণ আসনে ৪৮ জন।
এ ইউনিয়নে ১০টি ভোট কেন্দ্রে ৫৪টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে।ভোটার সংখ্যা ১৯হাজার ২৩১জন।এরমধ্যে পুরুষ ১০হাজার ৩৯জন, আর মহিলা ৯হাজার ১৯২জন।
৩নং চারিকাটা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৮ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহবায়ক মো. আলতাফ হোসেন বিলাল, বিএনপি সমর্থিত বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ও বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন আজাদ, স্বতন্ত্র মো. আফজাল হোসেন, বদরুল ইসলাম ও মো. সুলতান করিম ।এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ১২ জন, সাধারণ আসনে ৩৬ জন প্রার্থী।
এ ইউনিয়নে ৯টি ভোট কেন্দ্রের ৪২টি কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে।ভোটার সংখ্যা ১৪হাজার ৮২২জন। এরমধ্যে পুরুষ ৭হাজার ৪১৪জন এবং মহিলা ৭হাজার ৪৮জন।
৪নং দরবস্ত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন, জমিয়তে উলমায়ে ইসলামের মো. মাসউদ আজহার, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সাবেক উপজেলা ছাত্রদল নেতা মো. বাহারুল আলম বাহার, বিএনপি নেতা খায়রুল আমীন ও জসিম উদ্দীন সিকদার। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ১১ জন , সাধারণ আসনে ৪৩ জন।
এ ইউনিয়নে ১০টি ভোট কেন্দ্রের ৭৭টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে।ভোটার সংখ্যা ২৮হাজার ২১৬জন।তন্মধ্যে পুরুষ ১৪হাজার ৫৮৩জন, আর মহিলা ১৩হাজার ৬৩৩জন।
৫নং ফতেপুর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত রফিক আহমদ, বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির নেতা আব্দুর রশিদ ও ইসলাম আলী। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ৮ জন , সাধারণ আসনে ৪৪ জন।
এ ইউনিয়নের ৯টি ভোট কেন্দ্রের ৪৬টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে।ভোটার সংখ্যা ১৬হাজার ১৬৯জন। এরমধ্যে পুরুষ ৮হাজার ৭৮০জন, মহিলা ৭হাজার ৩৮৯জন।
৬নং চিকনাগুল ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯ জন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত কামরুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আমিনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এবিএম জাকারিয়া।
এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ১১ জন , সাধারণ আসনে ৪৫ জন। এ ইউনিয়নের ১০টি ভোট কেন্দ্রের ৪৪টি কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে।ভোটার সংখ্যা ১৫হাজার ৭১২জন।এরমধ্যে পুরুষ ৮হাজার ১৮৩জন, মহিলা ৭হাজার ৫২৯জন।