জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চিত্রা সিনেমা হল স্টাফদের সংঘর্ষ, আহত ৪

জবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চিত্রা সিনেমা হল স্টাফদের সংঘর্ষ, আহত ৪
ছবি: সংগৃহীত

তানভীর আহমেদ, জবি প্রতিনিধি।।তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুরান ঢাকার চিত্রা সিনেমা হলের স্টাফদের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

(শুক্রবার) বিকেলে পুরান ঢাকার চিত্রা সিনেমা হলের ভিতরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

হলে ছবি দেখতে আসা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাওয়া সিনেমার শো চলাকালীন সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে সিটে বসাবসি নিয়ে ও সামনে দিয়ে বারবার যাওয়া আসা করার জন্য হলের স্টাফদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্টাফরা শিক্ষার্থীদের মারধর করে। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বন্ধুরা খবর পেয়ে সেখানে গেলে স্টাফদের সঙ্গে পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। 

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, ১১তম ব্যাচের দেলোয়ার হোসেন, নিলয় চন্দ্র বালা এবং ইতিহাস বিভাগের ১৩তম ব্যাচের রুবেল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

সংঘর্ষের একপর্যায়ে চিত্রা মহল হলের ম্যানেজার মোঃ ইকবাল ইউসুফ  ও কোতোয়ালী থানার পুলিশ উপস্থিততে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। 

পরে কোতোয়ালী থানার পুলিশ, হলের ম্যানেজার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মোঃ রিফাত শেখ, মোঃ মেহেদী হাসান মুন ও মিনুন মাহফুজের মধ্যস্থতায় ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা ব্যয় হিসেবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের আর কোন অভিযোগ নেই বলে লিখিত সাক্ষ্য দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রুবেল হোসেন বলেন, সাড়ে তিনটার হাওয়া সিনেমা শো দেখতে ৩টা ১০ মিনিটের সময় চিত্রা মহল হলে যাই। আমাদের টিকিট আগে থেকেই কেটে রাখা ছিল। এরপর আমরা হলের দ্বিতীয় তলায় বসি। হাওয়া সিনেমা শো শুরু হওয়ার কিছুক্ষন পরে দর্শকদের সামনে দিয়ে হলের স্টাফ রমজান সিট নিয়ে বারবার যাওয়া করতেছিল। বারবার সামনে দিয়ে না যাওয়ার জন্য আমরা তাকে নিষেধ করি। তারা আমাদের বলে তোরা কারা আমরা বলি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তখন তারা আমাদের সাথে কথা কাটাকাটি করতে করতে আমাদের উপর হামলা করে বসে। দ্বিতীয় তলায় থেকে নিচ তলায় আসলে সেখানেও বেধর মারপিট করে আমাদের। আমার হাত ব্যাথা করতেছে মনে হচ্ছে হাড় ভেঙে গেছে।

এদিকে আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই। আমরা কোন অন্যায় না করার পরও আমাদের উপর হামলা করেছে কেন এটার সুষ্ঠ বিচার হোক। 

সংঘর্ষের সাথে জড়িত হলের একাধিক  স্টাফের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি। 

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো পক্ষের  অভিযোগ পায়নি এখনো। আমি খোঁজ নিচ্ছি। 

ঘটনা বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ  করলে কোনো সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।