জবি শিক্ষার্থীর গায়ে পানির ছিটা পড়ায় লেগুনা মালিককে জরিমানা 

• মালিকেরা বলছে 'ওপেন চাঁদাবাজি' • শিক্ষার্থীরা বলছে ' বেপরোয়া লেগুনা ড্রাইভাররা' • বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলছে' আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পন্ন বানোয়াট, চাইলে যে কেউ মামলা করুক'

জবি শিক্ষার্থীর গায়ে পানির ছিটা পড়ায় লেগুনা মালিককে জরিমানা 
ছবি: সংগৃহীত

তানভীর আহমেদ, জবি প্রতিনিধি ।। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীর গায়ে সড়কে জমে থাকা পানির ছিটা পড়ায় বাহাদুর শাহ নামের লেগুনা মালিককে জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জরিমানাটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি। তবে মালিকেরা বলছে তাদের জিম্মি করে 'ওপেন চাঁদাবাজি' নামে জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চালককে করা হয়েছে শারিরীক নির্যাতন। 

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পরিবহন শ্রমিক ও পুলিশ বলেন, সড়কে জমে থাকা পানি ওপর দিয়ে লেগুনা যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মহসিন মোস্তাক নামে এক শিক্ষার্থীর গায়ে পানি ছিটা পড়ে। পরে সে লেগুনা থামানোর চেষ্টা করে। এতে লেগুনা গ্লাস ভেঙে হাতে আঘাত পান। ঘটনা ক্যাম্পাসের অন্য বন্ধুদের জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটোকের সামনে লেগুনা স্ট্যান্ডের ১০-১২টি লেগুনা আটক করে বিক্ষোভ করতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। 

আহত শিক্ষার্থীর সহপাঠী মীর মুকিত বলেন, টিএসসিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দুটি লেগুনা পাল্লা দিয়ে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময়, আমার বন্ধুর গায়ে কাঁদা লাগে। পরে সে গাড়িতে থামাতে গেলে তার হাত কেটে যায়। পরে আমরা বিষয়টি প্রক্টর অফিসে জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে লেগুনাগুলো শিক্ষার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ড্রাইভাররাও অপ্রাপ্ত বয়স্ক।

শ্রমিকরা বলছে, ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির এক নেতার নেতৃত্ব দিয়ে গাড়ি ভাঙচুরের পরিকল্পনা করে। লেগুনা চালকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে এনে মারধর করা হয়। পরে লেগুনা মালিক এসে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে শিক্ষার্থীদের ৫ হাজার টাকা জরিমানা দেয়। সমঝোতায় সাক্ষী হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের (১৫ তম ব্যাচের) শিক্ষার্থী জুয়েল, মুকিত, সিহাব, মৃদুল এবং পরিবহনের মোঃ কামরুজ্জামান মুন্সী ও মোঃ সোহানুর

নাম না প্রকাশ করার অনুরোধ জানিয়ে এক শ্রমিক বলেন, আমাদের চালকে আটক করার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে এই জরিমানা নেয়। প্রক্টর স্যার আমাদের আত্মপক্ষ সমর্থন করারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী আমাদের শ্রমিকদের সঙ্গে ঝামেলা করে এমন অর্থ আদায় করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংযুক্ততা আছে। তারা লেগুনায় স্থান তুলে দেওয়ার হুমকি দেয়।

বাহাদুর শাহ লেগুনা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, ঘটনার পর আমাদের ড্রাইভারকে প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে গিয়ে চড় থাপ্পড় মারা হয়। পরে জরিমানা রায় দেয় প্রক্টর।

আব্দুস সালাম আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অসহযোগিতা এবং অসহ্য মূলক আচরণ করেছে। এখানে ব্যবসা করার জন্য আসলেও শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার হয়। প্রায় সময় এরকম ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ করা হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। এখানে শিক্ষার্থী, শ্রমিক, পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল সদস্যদের উপস্থিতিতে সমঝোতা করেছে। আমি এসব সঙ্গে জড়িত নই। যদি কারো অভিযোগ থাকে থানায় মামলা দিতে পারে। আমাদের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে দপ্তরে এসে অভিযোগ জানাতে পারবে।

মোস্তফা কামাল আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীর হাত কেটে গিয়েছে, সে চিকিৎসা নিয়েছে। আমরা লেগুনা স্ট্যান্ড তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নিব।