জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর ফাসির দাবী গোবিন্দগঞ্জ পৌর মেয়রের

জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর ফাসির দাবী গোবিন্দগঞ্জ পৌর মেয়রের
ছবিঃ সংগৃহীত

আবু তাহের, স্টাফ রিপোর্টার।।  ২৯ মার্চ, সোমবার।। জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানিদের দোসর উল্লেখ করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর মেয়র মুকিতুর রহমান রাফি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর ফাসির দাবী করে বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের এজেন্ড হিসেবে জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাথে চিঠি আদান-প্রদান করতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর কর্নেল আসলামকে তিনি চিঠিতে পাকবাহিনীর কাছে রক্ষিত তার স্ত্রী এবং পুত্রের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। উত্তরে কর্নেল আসলাম বলেন, তোমার স্ত্রী  এবং সন্তান সুরক্ষিত আছে। কর্নেল আসলাম চিঠিতে আরো বলেন তোমার কাজ ভালো হচ্ছে, তুমি কাজ চালিয়ে যাও।

 
পাকিস্তানি বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে জিয়াউর রহমানের এই ধরনের চিঠি আদান-প্রদান প্রমাণ করে যে তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি ছিলেন পাকিস্তানিদের চর।’

তিনি বলেন, রাজাকার আলবদলদের হোতা গোলাম আযমকে এদেশে ফিরিয়ে এনে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের আনুষ্ঠানিক পুর্নবাসন শুরু করেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানিদের দোসর হিসেবে প্রমাণ করেন।’মুকিতুর রহমান রাফি বলেন, ‘আর আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসে সেই জিয়াউর রহমান এর অনুসারীদের বাংলার মাটিতে ঠাই নেই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে মুজিববর্ষ উদযাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৯ মার্চ ২০২১ সোমবার দুপুর ০২:০০ ঘটিকায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার শহীদ মিনার চত্তরে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে এই আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় । কাউন্সিলর ছামস উদ্দিন ভেলার সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবারের কৃতি সন্তান, গোবিন্দগঞ্জ পৌরবাসির মাটি ও মানুষের নেতা নব-নির্বাচিত মেয়র জননেতা মুকিতুর রহমান রাফি। 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুকিতুর রহমান রাফি আরও বলেন, শেখ মুজিবের জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হতে পারতো না। আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা অর্জন করতে পারতাম না। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্যে দিয়ে যার যা আছে তাই নিয়ে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। নির্দেশ দেন বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। বাংলার জনগণ তার নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ২০ বছরের সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। বাঙালি জাতি মুক্তি পেয়েছিল। শেখ মুজিবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যার কাছে যা আছে তাই নিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছিল। 
মুক্তিযুদ্ধে অগ্নিঝরা দিনগুলো সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে মুকিতুর রহমান রাফি বলেন, যে স্বাধীনতার জন্য আমরা বাঙ্গালিরা এত কিছু করেছি, এত রক্ত, সংগ্রাম, আন্দোলন, জেল-জুলুম-নির্যাতন ভোগ করেছি সেই স্বাধীনতা আনতে পেরেছি। এর চেয়ে বড় কিছু পাওয়ার থাকতে পারে না।’
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীর সন্ধিক্ষণে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যে আদর্শ, লক্ষ্য সামনে নিয়ে আমরা বাঙ্গালিরা যুদ্ধ করছিলাম। দেশকে স্বাধীন করলাম। আজকে নতুন প্রজন্মকে এই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখেই আদর্শকে ধরেই তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সেটাই আমার প্রত্যাশা। আমাদের নৈতিক চরিত্র, নীতি-আদর্শ অন্য দেশের মানুষ যাতে রোল মডেল হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, ঠিক সেই পর্যায়ে নতুন প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সেটাই আমি প্রত্যাশা করি।
উক্ত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সোনালী অর্জন সাবেক সফল সভাপতি ও সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল, গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান সরকার, পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর শাহিন আকন্দ, প্যানেল মেয়র-২ রিমন কুমার তালুকদার, ,কাউন্সিলর জাফুরুল ইসলাম জাফু, মিজানুর রহমান রিপন, মোকলেসুর রহমান মোকলেস,  সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর আফরোজা খাতুন সুইটি, মোছাঃ জোহরা বেগম,ও মোছাঃ জাহানারা বেগমসহ পৌর আওয়ামীলীগের অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।