ঝিনাইদহ পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপে আটক ২ যৌনকর্মী সহকারে ফরিদপুর থেকে নিখোঁজ তরুণী। 

ঝিনাইদহ পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপে আটক ২ যৌনকর্মী সহকারে ফরিদপুর থেকে নিখোঁজ তরুণী। 

সোহেল মাহমুদ, ফরিদপুর : গত ২১ আগস্ট ২০২১ ইং তারিখ শনিবার দুপুর ০১.০০ টার সময় ফরিদপুর জেলার, নগরকান্দা উপজেলা, রামনগর ইউনিয়নের, গোপালপুর গ্রামের ১৭ বছর বয়সী এক তরুণী নিখোঁজ হন।

তরুনীর বাবা প্রথমে মনে করেন মেয়ে হয়তো আসেপাশে কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছে, কিন্তু যখন সে সেদিন এবং তার পরবর্তী দিনেও বাড়িতে না ফেরেন তখন সে সংবাদ মাধ্যমের কাছে সাহায্য চান, পরবর্তীতে সংবাদিক নিজ তাগিদে জনসার্থে পুলিশকে সাথে নিয়েই তদন্ত এবং উদ্ধার অভিযানে নেমে পরেন।

বিষয়টি নিয়ে অনেক সোর্স ব্যবহার করা হয় এবং সামনে আসে এক ভয়াবহ চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং ঘটনা, মেয়েটিকে তার এক পরিচিত হকি ক্লাবে ভর্তির কথা বলেই মূলত বাড়ি থেকে বের করে নিয়েছে।

নিখোঁজ ঐ তরুণী প্রথমে ফরিদপুর সদরপুর উপজেলায় যায়, সেখানে তার পরিচিত একজনের বাসায় রাত্রিযাপন করেন এবং ঐ পাচারকারীর কথামতো ২২/০৮/২০২১ ইং রবিবার ফরিদপুর থেকে ঢাকা যায়, ঢাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এর কঠোর নজরদারি হওয়ার কারনে ঢাকা যে দালাল চক্র তারা ঐ মেয়েকে তাদের সাথে নেয়ার কোনো সুযোগ না পাওয়াতে ঐ তরুণী দোহার মৈনটঘাট চলে আসে।

মেয়েটি যখন মৈনটঘাট আসেন তখন সেখানে চলাচলরত সকল নৌযান বন্ধ হয়ে যায়, পরবর্তীতে মেয়েটি এক রিক্সাওয়ালার সাহায্য নিয়ে সেখানেই একটা বাড়িতে অবস্থান করেন, এবং পরবর্তী দিন সকাল পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন।

পরদিন ২৩/০৮/২০২১ ইং তারিখ সোমবার মেয়েটি মৈনটঘাট পার হয়ে সরাসরি সদরপুর চলে যায়, সেখান থেকে দালাল চক্রের সাহায্য নিয়ে সদরপুর থেকে সরাসরি ঝিনাইদহ জেলা চলে যায়, আর সেখানেই ঘটে সকল নাটকিয়তা।

এদিকে সংবাদকর্মী তার সকল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে ২৪/০৮/২০২১ ইং তারিখ মঙ্গলবার সদরপুর ব্যপকভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে ঐ তরুণীর এক ছেলে বন্ধু নাম মতি, বয়স ১৮-১৯ হবে, তার সাথে এই বিষয়ে আলাপ করলে সে তার আরেক বন্ধু সাগরের সাথে উক্ত বিষয়ে কথা বলেন।

পরবর্তীতে সাগর এবং মতির সহযোগিতা নিয়েই ৩ টি ফোন নাম্বার উদ্ধার হয়, উক্ত ফোনের সূত্র ধরে এবং নেটওয়ার্ক লোকেশন ট্র‍্যক করে ঐ নিখোঁজ তরুণী এবং পাচারকারী দালালচক্রের সন্ধান পাওয়া যায়।

দালাল চক্রটি মুলত বিভিন্ন অল্পবয়সী মেয়ে দ্বারা পরিচালিত হয়, এবং ঐ মেয়েরা ফেসবুক, টিকটক, লাইকির মাধ্যমে অন্যান্য মেয়েদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখে, এবং তাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের লোভনীয় অফার দিয়ে আক্রিষ্ট করে। 

তেমনই একটি দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য ঝিনাইদহ সদরের ভারা থাকা তরুণী আনিতা এবং তার পরিবারের সব সদস্য, তারা ঝিনাইদহ থেকে আসপাশের বিভিন্ন অসহায় তরুনীদের লোভনীয় অফার দিয়ে তাদের একত্রিত করে, এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হতে বাধ্য করে।

দালাল চক্র সদস্য আনিতা মূলত ফরিদপুর জেলার মেয়ে, পারিবারিক সূত্র ধরে সে ঝিনাইদহ অবস্থান করছে, আর ঝিনাইদহ তার পুরো পরিবার এবং সে নিজে অবৈধ বানিজ্যের সাথে যুক্ত, সে ফরিদপুর থেকে নিখোঁজ সেই তরুনিকে গতো ১ বছর যাবত তার ব্যবসায় ব্যাবহারের চেষ্টা করছে, কিন্তু বারবার ব্যার্থ হয়ে সবশেষে সফলতা লাভ করেন, আনিতা নিজেই একজন পেশাদার যৌনকর্মী, সে যশোরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের রাতের রানি হিসেবে কাজ করে, সে শুধু একজন যৌনকর্মী নয়, এর পাশাপাশি সে সংঘবদ্ধ নারী পাচারকারী চক্রের সদস্য।

সে ফরিদপুর থেকে নিখোঁজ হওয়া তরুনিকে প্রথম তার এক বান্ধবিদের বাড়িতে রাখেন, এবং তারপর সেখান থেকে তাকে এক বাসিক হোটেলে পতিতাবৃত্তি করার জন্য অনুরোধ করেন ও সেখানে নিয়েও যায়।

অন্যদিকে সাংবাদিক ঐ ৩ মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে নদী নামের একটা মেয়ের সাথে পরিচিত হয়, আর এই নদীর ফোন লোকেশন ট্রেস করা হয়, এবং পরবর্তী ৯৯৯ তে ফোন করে পাচারকারী আনিতার মা এবং ঐ নিখোঁজ তরুনিকে যশোর সদর থানা পুলিশ উদ্ধার করেন।

উদ্ধার হওয়ার পরে যশোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ সোহেল রানা আনিতা, আনিতার মা এবং ঐ নিখোঁজ তরুনীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে মেয়ের পরিবারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং ২৫/০৮/২০২১ ইং তারিখ বুধবার সকালে থানায় গিয়ে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে বলেন।