ঝালকাঠিতে ইউপি চেয়ারম্যান বাশার সাময়িক বরখাস্ত: কেন স্থায়ী বরখাস্ত নয় কারণ দর্শানোর নির্দেশ

ঝালকাঠিতে ইউপি চেয়ারম্যান বাশার সাময়িক বরখাস্ত: কেন স্থায়ী বরখাস্ত নয় কারণ দর্শানোর নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি।।নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারীতা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের কারনে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বসার খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা গত ১৬ জুন সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা করেছে।

     গত ১৯ জুন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি পৌছার পর মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে।

     স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার সিনিয়র সহকারি সচিব জেসমীন প্রধান স্বাক্ষরিত ৪৬.০০.৪২০০.০১৭.২৭.০০১.২০২০-৩৬৯ নং স্মারকের এক  প্রজ্ঞাপনে এ সাময়িক বরখাস্তের আদেশ হয়। 

   অনুলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো: জোহর আলী বলেন, সাময়িক বরখাস্তের সাথে  চেয়ারম্যানকে কেন স্থায়ী বরখাস্ত করা হবে না সে বিষয় কারণ দর্শানোর জান্য সাত দিনের সময় দিয়ে নোটিশ করা হয়েছে। 

        সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত তিন বছরের ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের ১২,৮২,৩৫০ টাকা মাসিক সভায় আলোচনা বা রেজুলেশন না করে আত্মসাত, করোনাকালিন  দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের বরাদ্দকৃত ত্রাণের চাল আত্মসাত, করোনাকালিন প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে অসহায় মানুষের মাঝে প্রদানকৃত ২৫০০ টাকা বিতরণে অনিয়ম, এলজিএসপি-৩ এর প্রাপ্তবরাদ্দ থেকে তথ্য সেবা কেন্দ্রের মালামাল না কিনে করে অর্থ আত্মসাত, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ফটোকপি কেনা বাবদ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাত, ইউনিয়ন ভিত্তিক করোনা টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের আপ্যায়নের ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাত, ট্রেড লাইসেন্স ফি, ওয়ারিশ ফি, ওয়ারিশ সনদ ফি, অটোরিক্সালাইসেন্স ফি এর তিন লাখ টাকা আত্মসাত, প্রাক্তন ইউপি সচিব দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশনসহ সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া ২০ সেট রিং স্লাপ ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে বিতরণের অভিযোগ তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক তদন্তে প্রমানিত হয়েছে। 

      এ ব্যাপারে ৭ নং পোনাবালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার খান বলেন, মন্ত্রনালয়ের চিঠি এখনও আমি হাতে পাইনি। তবে একটি চিঠি আসছে শুনেছি। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলো। তার তদন্তও হয়েছে, বলেন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার খান স্বীকার করেন।