ঝালকাঠিতে গৃহবধূ হত্যার বিচারের দাবিতে স্বজনদের মানববন্ধন

ঝালকাঠিতে গৃহবধূ হত্যার বিচারের দাবিতে স্বজনদের মানববন্ধন
ছবি: সংগৃহীত

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি: ঝালকাঠি জেলা শহরের সুতালড়ী এলাকার মেয়ে এক সন্তানের জননী গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসী ঝর্নাকে (২১) হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুরের বিচারের দাবী করে এক মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। সোমবার (১৫ আগষ্ট) সকাল ১১ টায় ঝালকাঠি জেলা পরিষদ ও পুলিশ লাইনস এর সম্মুখে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। তারা ঝর্নাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার পর আত্মহত্যার প্রচারনা চালিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে। এ ব্যাপারে তারা পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে তদন্ত পূর্বক উপযুক্ত বিচারের দাবী জানিয়েছেন।

   মানববন্ধন কালে নিহত ঝর্নার পিতা বাবুল তালুকদার ও ভাই মিরাজ তালুকদার বলেন, ২০১৮সালে পারিবারিকভাবে ঢাকার বেলতলা পলাশপুর এলাকার রাজু আহম্মেদের সাথে ঝালকাঠি সুতালড়ী এলাকর বাবুল তালুকদারের একমাত্র কণ্যা জান্নাতুল ফেরদৌসী ঝর্নার বিয়ে হয়। ঝর্না ও রাজুর সংসারে দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। 

সন্তান হওয়ার পর থেকে স্বামী সরাজুর পরিবার তার উপর নানা ভাবে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন শুরু করে। ঝর্নার পরিবার নির্যাতনের কথা জানতে পেরে রাজু ও তার বাবা মার সাথে যোগাযোগ করলে তারা ঝর্নাকে মানষিক রোগী বলে জানায়। এবিষয়ে তারা বিভিন্ন ডাক্তার দেখালেও তারা ঝর্নাকে সম্পূর্ন সুস্থ বলে জানায়। 

   তারা অভিযোগ করেন, গত ৬ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টায়  গত গত ৬ আগষ্ট শনিবার  ৬/৮/২১ শনিবার রাত ৮টা ৩০ বোন জামাই রাজু আহমেদ আমাদের ফোন দিয়ে বোন ঝর্না হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে বলে জানায়। ঘটনাস্থল বোন জামাইর বাড়ী গিয়ে আমরা জানতে পারি আমার বোন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। 

  আসলে স্বামী ও তার পরিবার আমার নিরপরাধ বোন ঝর্না কে হত্যা করে আসল ঘটনা ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এমন কি ঝর্নাকে দাফনের জন্য ঝালকাঠি নিয়ে আসার সময় তার স্বামী বা শ্বশুর কেউ সাথেও আসেনি বলে নিহতের পিতা ও ভাই অভিযোগ করেন। 

   এবিষয়ে সেলফোনে নিহত ঝর্নার স্বামী রাজু আহমেদ বলেন, আমার স্ত্রীর মানসিক সমস্যা ছিলেন, অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। আমার শ্বশুরবাড়ীর লোকজনও বিষয়টি জানে। ঘটনার দিন ঝর্না একটা গহনা কিনে দেয়ার জন্য আমাকে চাপ দিলে এই মুহূর্তে আমার পক্ষে সম্ভব না জানিয়ে কাজের জন্য বাইরে যাই। সন্ধ্যার বাড়ী ফিরে ঘরের লাইট বন্ধ ও ভিতর থেকে দরজা লাগানো দেখে আমি আশেপাশের লোকজন ডেকে ভিতরে প্রবেশ করে ঝর্নাকে ফ্যানের সাথে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলতে দেখি।

    আমরা উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আমি থানায় ফোন দিলে পুলিশ এসে লাশের ময়নাতদন্ত শেষ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে যদি প্রমাণিত আমরা হত্যা করেছি বলে প্রমান হয় তাহলে আদালত যে শাস্তি দেবে আমি মাথা পেতে নেব বলে দাবী করেন।