ঝালকাঠিতে দুই সংখ্যালঘু পরিবারের বিরোধ: ষ্ট্যাম্পে জোর পূর্বক স্বাক্ষর গ্রহনের অভিযোগ

ঝালকাঠির বিনয়কাঠিতে দুই হিন্দু পরিবারে বিরোধ। যুবককে ভয় দেখিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ

ঝালকাঠিতে দুই সংখ্যালঘু পরিবারের বিরোধ: ষ্ট্যাম্পে জোর পূর্বক স্বাক্ষর গ্রহনের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি: ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়ন দুই হিন্দু পরিবারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় রতন সরকারের নামে এক যুবককের বাড়ী ডুকে জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০২১ সালের ৩ মার্চ ইউনিয়নের গরঙ্গা গ্রামের ওয়ারিশ সুত্রে পাওয়া দুই একর ৮৩ শতাংশ জমি বিক্রির পর প্রভাবশালী একটি চক্রের সাথে বিরোধের জের এ ঘটনা ঘটেছে বলে শনিবার রাতে রতন সরকার জানিয়েছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যানর দাবী দুটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমিজমা নিয়ে বিরোধে ঘটনায় এক পক্ষ সংখ্যালঘু ইস্যু ব্যবহার করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।   
   রতন সরকার তার অভিযোগে জানান, ‘ আজ শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর ফকির, পরিমল চন্দ্র শীল, খোকন মল্লিক, পংকজ কুমার শীল, অবসর প্রাপ্ত পুলিশ সদস্য নজরুল ইসলাম ও মোবাশে^রসহ আরো ৫ থেকে ৭ জন লোক তার বাড়িতে আসে। ঘরে ডুকেই তারা অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও তাকে মারধর করে জোপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। বিনয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন পলাশের উপস্থিতিতে দলটি তার ঘরের মধ্য থেকে কিছু জমিজমার দলিলসহ অন্যান্য কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে জানিয়েছে। 
   এবিষয়ে বিনয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন পলাশ জানান, স্থানীয় সত্য শিল ও সুবাশিনী শিল নিসন্তানী মৃত্যুর পর সুবাশিনীর ওয়ারিশ দাবী করে তার ভাইয়ের ছেলে বাদী হয়ে সম্প্রতি আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত সদর থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিলে ওসি এবিষয়ে তার কাছে একটি প্রতিবদন চান। 
    সে অনুযায়ী ঘটনা তদন্তের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য, আ’লীগ সভাপতি-সম্পাদক ও স্থানীয় গন্যমান্যদের সাথে নিয়ে বিবাদি গ্রুপের বিরেন শিলের পুত্র রতন শিলের বাড়ীতে গিয়ে সকলের স্বাক্ষ্য গ্রহন করে চলে আসি। বাদী বিবাদী উভয় পক্ষই হিন্দু এবং তাদের জমিজমাসহ ওয়ারিশ সংক্রান্ত মামলা। সেখানে সংখ্যালঘু ইস্যু তুলে ধর্মীয় উস্কানী বা অপপ্রচারে লিপ্ত হওয়াটা দু:খজনক। তিনি বিষয়টি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের তদন্ত পূর্বক সত্য উদঘাটনের অনুরোধ জানান।
    এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,‘মৌখিক ভাবে এধরনের একটি অভিযোগ শুনলেও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।