ঝালকাঠিতে প্রতারনার শিকার হয়ে স্কুল শিক্ষিকার আত্মহত্যা 

ঝালকাঠিতে প্রতারনার শিকার হয়ে স্কুল শিক্ষিকার আত্মহত্যা 
ছবি: সংগৃহীত

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি।। ঝালকাঠিতে প্রতারনা ও অবিচারের শিকার হয়ে সুলতানা জাহান মুনা (২৯) নামের এক শিক্ষিকা আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার বিকালে শহরের বিশ্বরোডে তার ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। রাতেই মুনার পরিবার থানায় লিখিত আবেদন করে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ গ্রামের বাড়ী নিয়ে তরিঘড়ি রাত ২টায় দাফন সম্পন্ন করে বলে জানাগেছে। 

     তবে আত্মহত্যার দুই দিন পূর্বে শিক্ষিকা মুনা কর্তৃক সাবেক স্বামী ফরিদুলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের ও আত্মহত্যার পর থেকে ফরিদুলের আত্মগোপনের বিষয়ে পুলিশ গুরুত্ব না দেয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্ট হয়েছে। তাছাড়া মুনার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের ভূমিকায় ঘনিষ্টদের মধ্যে সন্দেহ দানাবেঁধে উঠেছে।
 
   নিহত সুলতানা জাহান মুনা কৃষ্ণকাঠি এলাকার টাইগার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী ও দিবাকরকাঠি গ্রামের অব:সমবায় কর্মকর্তা মোঃ আবুল বাসারের বড় মেয়ে। তার সাবেক স্বামী ফরিদুল ইসলাম ডাচ-বাংলা ব্যাংকের পাবলিক রিলেশন অফিসার ও বাসন্ডা ইউনিয়নের দারখি গ্রামের আমির আলীর ছেলে।

   নিহত শিক্ষিকার স্বজনরা জানায়, প্রায় ৯ বছর পূর্বে ভালোবেসে ফরিদুল ইসলাম ও সুলতানা জাহান মুনা বিয়ে করে। বর্তমানে তাদের ৭বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সংসার জীবনে স্বামী ফরিদুলের সাথে মামাতো বোনের ও স্ত্রী মুনার সাথে এক সহকর্মীর সম্পর্ক থ্কাার সন্দেহ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়। 

   একপর্যায়ে গত ৩০ জুন তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও গত ১৮জুলাই ফরিদ ‘নিজের ভূল স্বীকার করে মেয়েকে ছাড়া বাঁচবে না জানিয়ে’ মুনার কাছে ক্ষমা চেয়ে পুনরায় বিয়ের অনুরোধ জানায়। শিশু মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মুনাও কিছুটা নমনীয় হলে স্বামী ফরিদ তাদের নিয়ে বাগেরহাট হরিনপালাসহ বিভিন্ন যায়গায় বেড়াতে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় বসবাস শুরু করে।

    মুনার ঘনিষ্ট কয়েক সহকর্মী জানায়, পুনরায় বিয়ের ব্যাপারে মুনার পরিবারের আপত্তি সত্বেও সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ফরিদুলের প্রস্তাবে ১সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পুনরায় কাবিন রেজিষ্টি তারিখ ঠিক হয়। মুনা তার কর্মস্থলের সহকর্মীদের জানিয়ে বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে ছুটি নেয় ও বিকালে মুনা সাধনার মোড়স্থ ডাচ-বাংলা ব্যাংক কার্যালয়ে আসে। কিন্তু ব্যাংকে তাকে না পেয়ে ব্যাংক ম্যানেজার বাবুল আক্তার কে জানালে ফরিদুল আগেই চলে গেছে জানলে মানসিক ভাবে ভেংগে পরে। 

  এক পর্যায়ে ফরিদুলের প্রতারনা বুঝতে পেরে মুনা সেদিন সন্ধ্যায় ঝালকাঠি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ও তার পরিচিত বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে বিষয়টি জানায়। শুক্রবার এসআই ইশরাত জাহান তাকে নিয়ে বাসন্ডা দারখি ফরিদুলের বাড়ী গেলেও তাকে না পেয়ে ফিরে আসে। শনিবার দুপুরে নিজ ফেসবুক আইডিতে বাবা-মাকে নিয়ে সুইসাইড নোট পোষ্ট দিয়ে বাসার ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

   এ বিষয়ে ডাচ-বাংলা ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক বাবুল আক্তার জানায়, ১সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার শিক্ষিকা মুনা তাদের অফিসে এসে ফরিদুলকে না পেয়ে আমাকে তাদের পারিবারিক সমস্যা ও তাকে পুনরায় কাবিন করার বিষয়টি জানালেও পারিবারিক বিষয় বলে আমার কিছু করার নেই বলে জানাই। আজ রবিবার (৪সেপ্টেম্বর) ফরিদুল কোন পূর্ব নোটিশ ছাড়াই অফিসে অনুপস্থিত রয়েছে ও তার সেল ফোনটিও বন্ধ করে রেখেছে।

   এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের কাছে ঝালকাঠি থানার এসআই ইশরাত জাহান  শিক্ষিকা মুনাকে নিয়ে তার অভিযোগ তদন্তে গত ২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে দারখি গ্রামে গেলেও অভিযুক্তকে না পেয়ে ফিরে আসেন বলে স্বীকার করেন। তবে পরবর্তীতে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে এ বিষয়ে ওসির সাথে কথা বলতে পরামর্শ দেন।

    এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষিকা মুনা আত্মহত্যার ঘটনায় তার পরিবার কোন অভিযোগ করেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করে পোষ্ট মার্টেম না করার লাশ নিয়ে গেছে। তাছাড়া শিক্ষিকা মুনার দেয়া লিখিত অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে।