ঝালকাঠিতে সংবাদ সম্মেলনে বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ন নথি সরিয়ে ফেলার অভিযোগ

ঝালকাঠিতে সংবাদ সম্মেলনে বরখাস্তকৃত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ন নথি সরিয়ে ফেলার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি: বরখাস্তে পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান আবুল বাশার খান ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ইউপি সদস্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২মাস ধরে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের সকলের অজ্ঞাতে গুরুত্বপূর্ন নথিপত্র, রেজুলেশন খাতা, ক্যাশ বহি ও ব্যাংকের চেকবই সরিয়ে ফেলেছে বলে গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে পোনাবালিয়া ইউনিয়নের ১১ জন সাধারণ সদস্য পরিষদের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান আবুল বাশার খানের দূর্নীতি-স্বেচ্ছাচারীতা ও আইনের প্রতি অবজ্ঞা মূলক কর্মকান্ডের বর্ননা তুলে ধরেছেন।  

    লিখিত বক্তব্যে প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, পোনাবালিয়া ইউনিয়নের ১১ জন সাধারণ সদস্য চেয়ারম্যান আবুল বাশার খানের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নানা দুর্নীতি ও জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগ প্রদান করলে তদন্তে প্রমানিত হওয়ায় গত ১৬ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়া তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। একই সাথে কেনো তাকে স্থায়ী ভাবে বরখাস্ত করা হবেনা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তার কারন দর্শানোর নির্দেশ দেন।

    কিন্তু স্থানীয় সরকার আইনের ৩৪ এর (২) উপ ধারার (১) এর বিধি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ধারা ৩৩এর বিধান মতে নির্বাচিত প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের সুস্পষ্ট বিধি থাকলে চেয়ারম্যান আবুল বাশার খান তার তোয়াক্কা করছেননা। উপরন্তু বরখাস্ত হওয়ার পরেও চেয়ারম্যান বাসার গোপনে ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন, ক্যাশবই, ব্যাংকের চেকবইসহ দাপ্তরিক কাগজপত্র নিজের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং চেয়ারম্যান নির্ধারিত কক্ষে তালা দিয়ে আটকে রাখেন।

   ইউপি সদস্যরা আরো উল্লেখ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের ফাইলপত্র না পাওয়ায় পরিষদের কাজকর্মে অচল অবস্থার সৃষ্টি হলে ২৩ জুন ১১ জন সাধারণ সদস্য ও সচিব সভার মাধ্যমে রেজুলেশন করে উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তার কাছে পত্র প্রেরন করলে ১মাস তিন দিন পর গত ২৮ জুলাই উপপরিচালক স্থানীয় সরকার শাখা বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যানকে ৩দিনের মধ্যে ক্ষমতা হস্থান্তরের জন্য চিঠি দেন। চিঠি পাওয়ার পর সময়ক্ষেপনের জন্য তিনি ১৫দিনের সময় চেয়ে দরখাস্ত করলে উপপরিচালক তা নামঞ্জুর করে ৪ আগষ্ট পুনরায় ক্ষমতা হস্থান্তরের জন্য বললেও আজ ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিনি আইনের অমান্য করে স্বেচ্ছাচারীতা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

    ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন, বরখাস্ত হওয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার খানের কারনে গত প্রায় দুই মাস ধরে ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্ধা ও সাধারন নাগরিকরা চরম হয়রানি ও দূর্ভোগের শিকার হলেও তিনি কোন আইন কানুন বা বিধিবিধিানের তোয়াক্কা করছেনা। তার স্বেচ্ছাচারীতার ও অদৃশ্য ক্ষতার কারনে চলতি ২০২১-২২ অর্থ বছরে ত্রান মন্ত্রনালয়ের বরাদ্দ টিআর, কাবিখার ৪লাখ ৪০হাজার টাকা ফেরৎ যাওয়ায় ইউনিয়নবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই সাধারন মানুষ দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের সুষ্ঠু বিচার দাবী করে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখহাসিনা ও স্থানীয় রাজনৈতিক অভিভাবক আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপির হস্থক্ষেপ কামনা করেন।

   এ ব্যাপারে পোনাবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, পরিষদের রেজুলেশন, ক্যাশবই, ব্যাংকের চেকবইসহ দাপ্তরিক কাগজপত্র চেয়ারম্যান তার অফিস রুমে নিলেও নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়টা আইন বহির্ভূত। তিনি গত দুই মাসের বেশী সময় ধরে ইউনিয়নবাসীর দূর্ভোগের কথা স্বীকার করে প্রশাসনের কাছে সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানান।