টেকনাফে ছিনতাইকারী ও কিশোরগ্যাংয়ের হামলায় নারীসহ তিনজন আহত

টেকনাফে ছিনতাইকারী ও কিশোরগ্যাংয়ের হামলায় নারীসহ তিনজন আহত
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার।। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী এলাকায় এনজিও কর্মী ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক শিক্ষার্থী রহিম উল্লাহ, তার বোন ও ভাগীনাসহ তিন জন ছিনতাইকারী কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে। এসময় নগদ টাকা ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়া হয়।

সোমবার (১৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে দক্ষিণ শিলখালী এলজিইডি সড়কের উপর এঘটনা ঘটেছে। আহত রহিম উল্লাহ আল নোমান (২৮) দক্ষিণ শিলখালী এলাকার হাজী ছৈয়দ আহমেদের ছেলে এবং তার বোন আমিনা ও ভাগীনা ইমরান। তাদেরকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত এনজিও কর্মী রহিম উল্লাহ আল নোমান জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে প্রতিদিনের ন্যায় অফিস শেষ করে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে বাহারছড়া ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড উত্তর শিলখালী চিকনছড়ি নামক স্থানে পৌঁছলে পিছন থেকে তার ভাগিনার চিৎকার শুনতে পান। পিছনে গিয়ে দেখি টমটম আরোহী আমার বোন আমিনা ও ভাগিনা ইমরানকে ছিনতাইকারী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মারধর করছে। আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ছিনতাইকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে গেলে কিশোরগ্যাং আমার উপরও হামলা চালায়। এতে আমরা তিনজনই আহত হয়েছি। মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়া হয়। রহিম উল্লাহ আরও জানান, হামলায় জড়িত স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে মোস্তাক আহমদ, মৃত মোহাম্মদ কবিরের ছেলে শামশুল আলম , শামশুল আলমের ছেলে কিশোর গ্যাং লিডার জাহেদ , মোস্তাক আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন , শামশুল আলমের ছেলে জাহেদ সহ অজ্ঞাত আরো ৬/৭ জন। আহত ইমরান জানায়, মা আমিনা খাতুনকে নিয়ে নানুর বাড়ি থেকে আসার পথে জাহেদ, মোস্তাক, শামশু, জাহিদ, মামুন সহ আরো ৬/৭ আমার টমটম থামিয়ে প্রথমে মোবাইল ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর করে। আমার মা আমেনা খাতুন প্রতিবাদ করতে চাইলে তাকেও মারধর করে ধান ক্ষেতে ফেলে দেয় মোস্তাক ও জাহেদ। এ অবস্থায় মামাকে দেখতে পেয়ে পিছন থেকে ডাক দিলে মামা রহিম উল্লাহ মোটর সাইকেল থামিয়ে আমাদের রক্ষায় এগিয়ে আসলে তার উপরও হামলা করা হয়। সংবাদকর্মী সেলিম উল্লাহ জানান, আমার ভাই, বোন ও ভাগীনাকে মারধর করে আহত অবস্থায় ফেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে শামলাপুর প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়। পরে অবস্থা আশাংকাজনক হলে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বর্তমানে ইমরান ও রহিম উল্লাহ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত আমিনা খাতুন বলেন, আমাদেরকে খুব বেশি মারধর করা হয়েছে সাথে আমার তিন বছরের শিশুকেও তারা পিটিয়ে আহত করেছে। সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সুত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাসী মোস্তাক কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয় দাতা। চুরি, ছিনতাই ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, অপহরণ করে মুক্তিপন আদায় সহ নানান অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে জড়িত মোস্তাক সিন্ডিকেট। এই গ্যাং রাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সুপারি চুরি করে এবং সুফল ও সামাজিক বনায়নের গাছ চুরি করে। রাত যতই গভীর হয়, ততই তাদের মুখোশ খুলে যায়। আধার ঘনিয়ে আসলে শিলখালী এলাকায় চুরি ছিনতাই করে। কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতা সন্ত্রাসী মোস্তাকের বিরুদ্ধে রয়েছে নাশকতা সহ বিভিন্ন মামলা।

স্থানীয়রা জানায়, মোস্তাক ও শামশু তারা দুজনেই কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতা। কিশোর গ্যাংকে বিভিন্ন অপরাধ করতে বাধ্য করে। এবিষয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জানান, তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।