টেকনাফে ডিএনসির ৭২৭ অভিযানে ৪ কোটি টাকার মাদক জব্দ : গ্রেপ্তার-১১৯ 

টেকনাফে ডিএনসির ৭২৭ অভিযানে ৪ কোটি টাকার মাদক জব্দ : গ্রেপ্তার-১১৯ 
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ২৭ জুন।। কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টেকনাফ বিশেষ জোনের সদস্যরা গত ৬ মাসে ৭২৭টি মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। এসময় গ্রেফতার করা হয়েছে ১১৯ জন মাদক ব্যবসায়ীকে। এসময় প্রায় ৪ কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টেকনাফ সীমান্তে বিশেষ জোনের সহকারী পরিচালক সিরাজুল মোস্তফা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, টেকনাফ বিশেষ জোনের সদস্যরা গত ১লা জানুযারী থেকে চলতি জুন মাস পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৬৬ পিস ইয়াবা, ২ কেজি মাদক সন্ধিগন্ধ দ্রব্য, ৪ কেজি গাজা, ৭৮ লিটার চোলাই মদ, ৬০ ক্যান বিয়ার, ১৩টি মোবাইল সেট ও ২টি গাড়ী আটক করে ।
মরণ নেশা ইয়াবার পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা আরেক প্রাণঘাতী ভয়ঙ্কর মাদক ২ কেজি আইস জব্দ করে। জব্দকৃত আইসের আনুমানিক মূল্য দুই কোটি টাকা। উদ্ধার হওয়া দুই কেজি ‘আইস’ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চালান। আটককৃত মাদকের মুল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
অভিযানে নগদ ৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা উদ্ধার ছাড়াও মাদক কারবারীদের ব্যবহৃত ৩টি শটগান অস্ত্র , ১টি দেশীয় তৈরি এলজি ও ১২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। 
গত ৭২৭টি অভিযানে ১১৯ মাদক ব্যবসায়ী নারী ও পুরুষকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মাদক ও অস্ত্র আইনে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয় ৯৩টি। 
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে মাদক বিস্তারের প্রধান কারণ ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় মাদকের বাজার বড়। 
চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগান নিয়ে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয় ২০১৮ সালে। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাদক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত সংস্থা ও বাহিনীগুলো অভিযান শুরু করে সেই থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে । 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানের পরও হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। সংস্থাগুলো বলছে, চাহিদা আছে বলে জোগানের কমতি নেই। 
ডিএনসি সীমান্ত জোনের সহকারি পরিচালক সিরাজুল মোস্তফা আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় অভিযান কিছুটা কম হয়েছে; এখন অভিযান আরও বাড়ানো হবে।’
শুধু আমদানি, কারবারি ঠেকিয়ে মাদক নির্মূল হবে না। এ বিষয়ে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।’