টেকনাফ শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬ আদিবাসী ছাত্রী পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার বাইসাইকেল 

টেকনাফ শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬ আদিবাসী ছাত্রী পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার বাইসাইকেল 
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার,২২ জুন।। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত ১৬ জন চাকমা আদিবাসী ছাত্রীকে' প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট' থেকে সাইকেল উপহার দেয়া হয়েছে। সাইকেল উপহার পাওয়া ছাত্রীরা টেকনাফ বাহারছড়া শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট থেকে ১০ম শ্রেণীতে পড়ুয়া। তারা আজ অনেক খুশি।

টেকনাফ শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ওই ১৬ চাকমা ছাত্রীর হাতে সাইকেলগুলো তুলে দেন বিদ্যালয় কতৃপক্ষ।
তারা উখিয়া জালিয়াপালং ও টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের মনখালী চাকমা পাড়ার আদিবাসী সন্তান।
সাইকেল উপহার পাওয়া কয়েকজন ছাত্রী জানালেন তাদের আবেগ ও অনুভূতির কথা।
তারা বলেন, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি জনপদ। এইজনপদে বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় প্রায় আট হাজার চাকমা আদিবাসী মানুষজনের বসবাস। 
পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস হলেও শিক্ষার আলো পৌঁছেছে ঘরে ঘরে। কিন্ত পাহাড়ি কাচা পথে যাতায়ত ছাত্রীদের দুর্ভোগ সেই অনেক আগের।
তারা জানালেন, তাদের বাড়ি থেকে গাড়ি চলাচলের পাকা রাস্তাও এক কিলোমিটার দুরে। অনেক সময় রাস্তায় এসেও সঠিক সময়ে গাড়ি পাওয়া যায়না।
পাহাড়ি জনপদের পড়ুয়ারা তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সঠিক সময়ে স্কুলে পৌঁছাতে পারে না। অনেক কষ্ট হয় ছাত্রীদের। তাদের এই কষ্টের সারথি হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে উপজাতি চাকমা পল্লীর ১৬ জন ছাত্রী সাইকেল উপহার পেয়ে অনেক খুশি। 
তার জন্য আমরা সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কৃতজ্ঞ। 
ছাত্রীরা আরও বলেন, আমাদের স্কুলে যাতায়তে কষ্টের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছাতে যারা সহযোগিতা করেছে তাদের কাছেও আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম, এ মনজুর ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইফুল কোম্পানিকে।
এব্যাপারে শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমএ মনজুর বলেন, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সানুগ্রহে ২০১২ সালে “প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট” গঠন করা হয় । 
ট্রাস্ট ফান্ড থেকে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, আর্থিক সহায়তা, অনুদান ও উচ্চ শিক্ষায় ফেলোশিপ প্রদান করে যাচ্ছেন । এতে করে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা ডিগ্রী পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে । শিক্ষার্থীদের হাতে স্বল্প সময়ে, ঝামেলাহীনভাবে উপবৃত্তির অর্থ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ই-স্টাইপেন্ড সিস্টেম বাস্তবায়ন করছে । 
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষার প্রসার, বাল্যবিবাহ রোধ, নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ দারিদ্র্য বিমোচনে ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, "আজকে আমাদের মেয়েরা অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা চাই আমাদের দেশের মেয়েরা সমানভাবে এগিয়ে যাক। কারণ বেগম রোকেয়াই আমাদের পথ দেখিয়ে গেছেন।”