টাকায় মিলেছে ক্রেস্ট ও সনদ"

কক্সবাজারে সমবায় দিবস উদযাপন হলো চাঁদার টাকায়

টাকায় মিলেছে ক্রেস্ট ও সনদ"
ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার।। সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন হয়েছে। তবে এবার তেমন জমেনি। কক্সবাজার জেলায় রয়েছে শত শত সমবায় সংগঠন আর হাজার হাজার সমবায়ী। 

দায়সারা অনুষ্ঠানে নামমাত্র শতাধিক মানুষ উপস্থিতি ছিল। এরমধ্যে প্রকৃত সমবায়ীর সংখ্যাও ছিল নগন্য!
শনিবার (৫ নভেম্বর) সমবায় দিবসের সূচনা হয় পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ দৌলত ময়দানে। 
অনুষ্ঠানের শেষের দিকে দিবসের সার্বিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা সমবায় কর্মকর্তা জহির আব্বাস এবং সদর সমবায় কর্মকর্তা রমিজ আহমেদ গণমাধ্যম কর্মীদের জবাব দেন, এবারে তেমন বাজেট নেই! চাঁদা তুলে করা হয়েছে আয়োজন।
বাজেট না থাকলে এতো আয়োজন কেন,প্রশ্ন করা হলে কিছুটা রাগান্বিত হয়ে যায় তারা। 
সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার শহীদ দৌলত ময়দানে সুসজ্জিত প্যান্ডেলের নিচে দর্শকসারিতে শতাধিক চেয়ার।  উপস্থিতিদের দেয়া হয়েছে গেঞ্জি-ক্যাপ। টোকেন সিস্টেমে 'হাজি বিরিয়ানির' স্বল্প মূল্যোর পাতলা ভাতের প্যাক। এসব কিছুতেও করা হয়েছে নয়ছয়! কারো ভাগ্যে জুটেছে, কারো ভাগ্যে জুটেনি। এভাবে দিনদুপুর গড়িয়ে নামমাত্র ৫ জন শিশু দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে শিল্পীদের বকশিস নামে সমবায় কর্মকর্তারা ৩ হাজার এবং পর্যটন ব্যবসায়ি কাশেম আলী ১ হাজার টাকা শিশু শিল্পীদের হাতে তুলে দিয়ে ফটোসেশন করে। অনুষ্ঠানে কক্সবাজার সদর সমবায় কর্মকর্তা রোমান্টিক মানুষ, গানে দেখা যায় কোমর নেড়ে নাচেন,
শেষ করা হয় দিনের অনুষ্ঠান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক সমবায়ী জানান, অনুষ্ঠান করতে সরকারি বাজেট থাক বা না থাক প্রতি বছর সকল সমবায় সংগঠন থেকে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা তুলেন। বরাবরের মতো এবারও চাঁদা তুলে দায়সারা আয়োজনে করে লুট করা হয় বিপুল টাকা।
সমবায়ীরা আরও জানান, এবারে টাকায় বিক্রি হয়েছে ক্রেস্ট, সম্মাননা ও সনদ। যে যতো বেশি টাকা দিতে পেরেছে তারাই পেয়ে সম্মাননা ও সনদ। এভাবে চলছে সমবায় অফিসের কর্মসূচি।