ঠিকাদারের কাছে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বকেয়া রেখেই সওজ'র গাবখান সেতুর টোল সংগ্রহ শুরু

বিভিন্ন সময় সরকারী খাতের টাকা জমা না দেয়ায় ২৭ জুলাই টোলের দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়ে ইসলাম ব্রাদার্সের কাছে সরকারের ১ কোটি ৪০লাখ টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। 

ঠিকাদারের কাছে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বকেয়া রেখেই সওজ'র গাবখান সেতুর টোল সংগ্রহ শুরু
ছবি: সংগৃহীত

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি।। অবশেষে এক বছর ২৬ দিন ১২ঘন্টা পরে আজ বুধবার দুপুর থেকে আদালতের নির্দেশে সেতুর টোল আদায় শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ইজারাদারের অতিরিক্ত এ সময়ে টোল আদায়ের বিপরীতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সওজ বিভাগের ১কোটি ৪০লাখ টাকা সরকারী রাজেস্ব পাওনা রয়েছে।

      ঝালকাঠির গাবখান সেতুর (পঞ্চম বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সেতু)। আজ বুধবার দুপুরে ইজারাদার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হাসানের কাছে সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন। 
   
   আদালত সূত্রে জানাগেছে, গত ২০১৮ সালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্স তিন বছরের জন্য গাবখান সেতুর ইজারাদার টোল আদায়ের দায়িত্ব পায়। সে অনুযায়ী ২০২১ সালের ৩০ জুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ইজারা টোল আদায়ের মেয়াদ শেষ হয়ে।

     তবে মহামারি করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারন দেখিয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঝালকাঠির ১ম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত ইজারাদারকেই পূর্বের ইজারা রেট অনুযায়ী টাকা জমা দিয়ে টোল আদায়ের নির্দেশ দেন।

    সওজ বিভাগের পক্ষ থেকে যুগ্ম জজ আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করে। প্রায় এক বছর আইনী লড়াই শেষে আদালত গত ৬ জুলাই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলার আদেশটি খারিজ করে দেন। এরপর গত ২৭ জুলাই ইজারাদার সড়ক বিভাগকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার পর থেকে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টোল আদায় শুরু করেন।

     ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্স ১ম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২০২১ সালের ৩০ জুনের পর থেকে পূর্বের রেটে অনুযায়ী টাকা জমা দিয়ে টোল আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে বিভিন্ন সময় সরকারী খাতের টাকা জমা না দেয়ায় ২৭ জুলাই টোলের দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়ে ইসলাম ব্রাদার্সের কাছে সরকারের ১ কোটি ৪০লাখ টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। 

    ঝালকাঠি সদর ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হাসান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ বুধবার দুপুর থেকে গাবখান সেতুর টোল আদায় শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যতদিন পর্যন্ত সেতু মন্ত্রণালয় থেকে টোল আদায়ের জন্য দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ না দিবেন ততদিন পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগই টোল আদায় করবে। 

   এছাড়াও বিদায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের বকেয়া পাওনা ১ কোটি ৪০লাখ টাকা আদায়ের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা পূর্বক শীগ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।