ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়েছে পাটখড়ির কদর, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে

ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়েছে পাটখড়ির কদর, হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে
ছবিঃ সংগৃহীত
স্টাফ রিপোর্টার ,ঠাকুরগাঁও।। ০৮ সেপ্টেম্বর, বুধবার।। 
এক সময় পাটখড়ি অবহেলার পন্য হলেও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির আর্শিবাদ বহু ক্ষেত্রে পাটখড়ি ব্যবহার বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়, জ্বালানি, চারকোল, পার্টিকেল বাের্ড মিলে। জেলার কৃষকরা পাট বিক্রি করে যতটা লাভবান হচ্ছেন তার সাথে পাটখড়ি বিক্রি করেও কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। 

এ ছাড়াও বেশিরভাগ বাড়িতে জ্বালানী হিসেবে বেশ নাম ডাক রয়েছে পাটখড়ির। বেশ কিছু মানুষকে পাটখড়ি শহরে বিক্রি করে জীবীকা নির্বাহ করতেও দেখা যায়। এরই ধারবাহিকতায় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি পাটখড়ির আটি রােদে শুকাতে দিয়েছেন কৃষকরা। ভালমত শুকিয়ে গেলে কৃষকদের বাড়ি থেকেই কিনে নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। তারা পাটখড়ি কৃষকদের কাছ থেকে মােটামুটি দামে কিনে ভ্যানে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে থাকেন। এতে করে বাড়তি আয় করছেন অনেকেই। বাড়িঘর, সবজি ক্ষেতের বেড়া, মাচা, পান বরজ ইত্যাদি কাজে পাটখড়ির আলাদা ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় আগে থেকেই। কিন্তু বর্তমানে ব্যাপক হারে পার্টিকেল বাের্ড তৈরীতে ব্যবহার হচ্ছে পাটখড়ি এবং চারকোলগুলাতে ব্যাপক হারে ব্যবহার হচ্ছে পাটখড়ি। অন্য দিকে পাটখড়ি পুড়িয়ে তার ছাঁই ব্যবহার হচ্ছে ফসলের ক্ষেতে। 
সদর উপজেলা রহিমানপুর দাসপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক জানান, এক বিঘা জমির পাটখড়ি সুন্দরভাবে শুকিয়ে পরিষ্কার করে বিক্রি করতে পারলে তার থেকে ৫-৭ হাজার টাকা আয় করা যায়। পাটখড়ি সরাসরি চারকোল বা বাের্ড ফ্যাক্টরিতে দিতে পারলে আরাে বেশি দামে বিক্রি করা যেত।  
সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামের কৃষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পাটকাঠির চাহিদা থাকায় ভালাে দাম পাওয়া যাচ্ছে। পাটখড়ি বিক্রি করে কিছুটা লােকসান পুষিয়ে নেওয়া যাবে। পাটখড়ি আগে শুধু জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও বর্তমানে নানামুখী কাজে ব্যবহারের ফলে কৃষকরা বাড়তি লাভবান হচ্ছেন। 
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মাে. আবু হাসেন বলেন, জেলার সব উপজেলাতে কম বেশি পাটের আবাদ হয়েছে। এবার পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হাজার ৮১৭ হেক্টর জমিতে। কিন্তু ৫২৫ হেক্টর বড় পাটের চাষাবাদ হয়েছে ৬ হাজার ২৯২ হেক্টর জমিতে। 
তিনি আরো জানান, এ অঞ্চলের পাট রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মিল-কারখানায় বিক্রি হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি পাটখড়িও ইতিমধ্যে রপ্তানী হতে দেখা যায়। এতে করে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা অর্জন করতে পারছেন। ভবিষ্যতে পাটখড়িও দেশের বিভিন্ন পার্টিকেল বাের্ড মিল ও চারকোল মিল দিয়ে কৃষকরা আর্থিক দিক দিয়ে আরও লাভবান হবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।