ঠাকুরগাঁওয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মেরে গলায় ফাঁস দেয়ার অভিযোগ 

ঠাকুরগাঁওয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মেরে গলায় ফাঁস দেয়ার অভিযোগ 
ছবিঃ সংগৃহীত

বিকাশ রায় চৌধুরী,ঠাকুরগাঁও।। ০৩ মে, সোমবার।। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নে শাহানাজ বেগম (২৪) নামের এক গৃহবধূকে মেরে গলায় ফাঁস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২ মে ) দুপুরে ঐ ইউনিয়নের উত্তর আসান নগড় গ্রামে এঘটনা ঘটে। মৃত শাহানাজ বেগম ঐ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ওরফে বুলু’র স্ত্রী ও পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের রাজাগাঁও গ্রামের মৃত শফিউদ্দিন মুন্সির মেয়ে। 
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়,  ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শাহানাজ বেগমের সাথে এক বছর আগে আব্দুল রাজ্জাকের সাথে বিয়ে হয়। কিন্তু হঠাৎ নিজ শয়ন কক্ষ গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় শাহানাজকে দেখা যায় । পরে পরিবারের লোকেরা তার মরদেহটি নিচে নামায়ে নেন। নিজেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করেছেন নাকি মেরে ফেলা হয়েছে  তা তদন্তের দাবি জানান এলাকাবাসী। 
মৃত শাহানাজ বেগমের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমরা সবাই মরিচ ক্ষেতে মরিচ তুলতে যায়। দুপুরের বাড়িতে এসে  শাহানাজকে ডাকাডাকি করলে কোন উত্তর না পেয়ে পরে দেখি শাহানাজ গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। তার পর অন্য ঘরের দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে শাহানাজের লাশ ফাঁস থেকে  নিচে নামিয়ে নেয়। 
অন্যদিকে মৃত শাহানাজ বেগমের স্বজনেরা জানান, আমাদের মেয়ে কখনোই আত্নহত্যা করতে পারে না। তাকে মেরে গলায় ফাঁসের কল্পকাহিনি। আমাদের ফোনে বলা হলো শাহানাজ এক্সিডেন্ট করেছে। এসে দেখি এক্সিডেন্ট না গলায় ফাঁস দিয়েছে। শাহানাজের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনকে না জানিয়ে লাশকে নিচে নামিয়ে বারান্দায় শুয়ে রেখেছে। এতে সন্দেহ হয় যে শাহানাজকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। 
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশারুল ইসলাম সরকার আত্মহত্যার বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টা আমি শুনেছি এবং রুহিয়া থানায় অবগত করছি। 
এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মোছা: সুলতানা রাজিয়া জানান, আমি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি।  মৃত শাহানাজ বেগমের স্বজনেরা মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ করায় রাতেই মরদেহটি থানায় আনা হয়েছে। আজ লাশ মর্গে পাঠানো হবে। আর  রিপোর্ট  না আসা পর্যন্ত বলা যাবে না হত্যা না আত্নহত্যা।