ঠাকুরগাঁওয়ে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক তিন মাসেই খনাখন্দ, জানেনা কর্তৃপক্ষ 

ঠাকুরগাঁওয়ে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক তিন মাসেই খনাখন্দ, জানেনা কর্তৃপক্ষ 
ছবি: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার।। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে নির্মাণের তিন মাসেই উঠে যাচ্ছে নতুন সড়কের কার্পেটিং। উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের বনগাঁও এলাকার বনগাঁও-ভোলাপাড়ার কাঁচা সড়কটির ৫ শ’ মিটার প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা করণের কাজ সমাপ্ত হয় চলতি বছরের ২০ মার্চ । 

সড়কটি নির্মাণের পর দিন থেকেই পাথর উঠা শুরু করে এবং কদিনেই বিভিন্ন জায়গায় তৈরী হয় ছোট ও মাঝারি আকারের গর্তের। এছাড়াও সড়কের এজিং এ নিন্মমানের ইট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর ।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। কার্পেটিং উঠে অনেক স্থানে গর্ত হয়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং পাথর উঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। নিন্ম মানের ইটের এজিং দেওয়ায় তা বিভিন্ন স্থানে ভেঙেও গেছে।

জানাযায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় কাজটি প্রায় অর্ধ কোটি টাকা টেন্ডার বরাদ্দে গত বছরের ২৪ জুলাই কাজটি পায় "মা বাবার দোয়া ট্রের্ডাস" নামক দিনাজপুরের একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি আবার সে কাজটি রাণীশংকৈলের স্থানীয় 'সুলতান টেড্রার্স' নামক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেন। সে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের নির্ধারিত শেষ সময় অনুযায়ী চলতি বছরের ২০ মার্চ কাজ সমাপ্ত করেন।

উপজেলার শ্রেষ্ঠ কৃষক পয়গাম আলী বলেন, রাস্তাটি নিয়ম মেনে নির্মাণ করেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। একইভাবে অজ্ঞাত কারণে নিশ্চুপ ছিল উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল গণি। তার সঠিক তদারকির অভাবে সড়কটির এমন দশা বলে মনে করেন তিনি।

স্থানীয় লোকেরা অভিযোগ করে বলেন, সড়কটি যখন থেকে নির্মাণ হয়। সেদিন থেকেই অনিয়মে চলে নির্মান কাজ, সড়কের সাব-বেজ ও ডব্লিউ বিএম (খোয়া) এ নিন্মমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। কার্পেটিং করার সময় দায়সারা ভাবে করা হয়েছে।

স্থানীয় ঠিকাদারের প্রতিনিধি আবু জাফর বলেন, কার্পেটিং তো উঠার কথা না । তারপরেও বিষয়টি আমরা দেখছি।

রাণীশংকৈল প্রকৌশলী দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল গণি বলেন, জুন মাস চলছে কাজে খুব ব্যস্ত আছি। এ বিষয়ে পরে জানানো হবে। তারপরেও এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই রাস্তাটি কবে নির্মাণ হয়েছে তা সঠিক জানা নেই। জুন মাসের পরে আসেন তখন কথা হবে।

অপরদিকে রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকৌশলী কে এম সাব্বিরল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না।