ঠাকুরগাঁওয়ে থাকতে চাইলে নৌকায় ভোট দিতে হবে!

ঠাকুরগাঁওয়ে থাকতে চাইলে নৌকায় ভোট দিতে হবে!
ছবিঃ বিকাশ রায় চৌধুরী

বিকাশ রায় চৌধুরী,ঠাকুরগাঁও।। আগামী রবিবার(১৪ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে সর্বত্র চলছে গণসংযোগ। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর গণসংযোগ থেকে বিএনপি সমর্থকদের কেন্দ্রে না আসার কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম। একই সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আঞ্জুমান আরা বন্যার পক্ষে গণসংযোগে গিয়ে এ কথা বলেছেন মাহমুদা বেগম। 
গত মঙ্গলবার(০৯ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গণসংযোগে এমন বক্তব্য দেন তিনি। উনার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভাইরাল হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আঞ্জুমান আরা বন্যার গণসংযোগ করতে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছেন কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের নেত্রীরা। বন্যার পক্ষে গত কয়েকদিন টানা গণসংযোগ করেন কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ও কেন্দ্রীয় নেত্রীরা। 

গণসংযোগে হ্যান্ড মাইকে মাহমুদা বেগম বলেন,"সারাদেশে আজ নৌকার জয়জয়কার। চারদিকে নৌকা জিতে যাচ্ছে। নৌকা ছাড়া কোনো কথা নেই। যাদের মনে এখনো ধানের শীষের প্রতি পিরিত কিংবা টান আছে, তারা ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঠাকুরগাঁও ছেড়ে চলে যান"
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচন। তাই ১৩ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যার পর ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মধ্যে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মুখ দেখতে চাই না।তাদের ভোটকেন্দ্রে আসার প্রয়োজন নেই। ভোটকেন্দ্রে যাবে শুধু স্বাধীনতার মার্কা, শেখ হাসিনার মার্কা ও আওয়ামী লীগের মার্কা। গণসংযোগে এমন কথা বলেন তিনি।

এমন বক্তব্য দেওয়ার সময় গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন আ.লীগের প্রার্থী আঞ্জুমান আরা বন্যা, কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের নেত্রী ও জেলা নেতারা।

গণসংযোগে এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম বলেন, নির্বাচনী মাঠে নানা ধরনের কথা বলতে হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বলছেন, আমরাও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে বলছি। এটা নির্বাচনী কৌশল। কৌশলের অংশ হিসেবে এ কথা বলা হয়েছে।
ভাইরাল বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে, পৌর নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী আঞ্জুমান আরা বন্যা বলেন, আসলে দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে এমন কথা বলেছেন নেত্রীরা। বাস্তবের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নির্বাচনের কারনে কাউকে এলাকা ছেড়ে যেতে  হবে না। আমরা চাই সবাই ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদান করবেন। আপাতত আমি ভাল অবস্থানে আছি। শুধু আ.লীগের ভোটে আমি বিজয়ী হতে পারবো না বিএনপি-জামায়াতের লোকজনও আমাকে ভোট দেবে বলে আমি আশাবাদী।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী শরিফুল ইসলাম শরিফ  বলেন, আ.লীগের কর্মীরা ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছেন আবার নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা প্রদান করছেন। বিএনপির সমর্থক ও ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে থাকতে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে নেতা কর্মীরা। এভাবে চললে ভোট কিভাবে হবে। মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রীরা এখানে এসে আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন। এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলছেন। আসলে তারা ভোট চায় না। নির্বাচনের ফলাফল নৌকার পক্ষে জোর করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের দরকার জয় ভোটের দরকার নেই।

ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জিলহাজ উদ্দিন বলেন, কোন প্রার্থী নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে পারবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, আমার কাছে অভিযোগ এসেছে আমি নিজে গিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও মহিলা লীগ নেত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। উনাদের আমি সতর্ক করেছি। পরবর্তীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।