ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ কনস্টেবলের  বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা

ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ কনস্টেবলের  বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা
ছবিঃ সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও।।ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে  পুলিশ কনস্টেবল জুয়েল রানা(২৪) নামের এক জনের বিরুদ্ধে ধর্ষন মামলা দায়ের হয়েছে।

মঙ্গলবার(২৮ সেপ্টেম্বর) ধর্ষণের শিকার কিশোরীর ভাই বিচারের আকুতি নিয়ে হতে এজাহারের কপি সহ দৈনিক আজকাল বাংলার প্রতিবেদকের কাছে আসেন।

জুয়েল রানা ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা থানায় কর্মরত আছেন বলে সদর থানা সূত্রে জানা গেছে।

ওই ধর্ষিতার বাবা মো: ফজলুর রহমান বাদি হয়ে বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,অপহরণ করে ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করেন।

এছাড়াও তিনি এই মামলায় হাসির উদ্দীনের ছেলে রবিউল হাসান মিঠুন (২৫) এবং ওই কনস্টেবলের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক কে আসামী করেছেন।

অভিযুক্তরা সকলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৭ নং চিলারং ইউনিয়নের চিলারং ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের এর বাসিন্দা।

বাদীর মৌখিক বক্তব্য ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পুলিশ কনস্টেবল জুয়েল রানা প্রায় সময় রাস্তাঘাটে ওই নাবালিকা নারীকে উত্যক্ত করতো। কখনো প্রেমের প্রস্তাব ও কখনো বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কু প্রস্তাব দিত। ওই নারী এই কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে তার বাসায় এই বিষয়টি বলে। পরে সুযোগ বুঝে ওই কনস্টেবল তার দলবল নিয়ে ওই নাবালিকা নারী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়ার পথে তাকে পাগলুযোগে অপহরণ করে এবং তাকে ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে বিষয়টি  স্থানীয়দেও মাঝে জানাজানি হলে গণ্যমান্যরা সমাধানের দিকে নিয়ে যায়। ওই কন্সটেবলের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক অঙ্গিকার নামাতে সাক্ষর করে বিয়ের কথা বললেও পরে মোটা অংকের যৌতুক দাবি করে। আর ওই নারীর পরিবার ওতটা স্বচ্ছল না হওয়ায় এ প্রস্তাবে রাখতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে যৌতুক দিতে না পারায় বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। তারপর কোন উপায় না পেয়ে ধর্ষিতার বাবা স্থানীয়দের পরামর্শে আদালতের স্বরনাপন্ন হয়।

এ বিষয়ে জানতে ধর্ষকের অভিযুক্ত জুয়েল রানা বাসায় গেলে তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। বাসার লোক বলে সে চাকরি সুবাদে বাইরে আছে। কিন্তু কোথায় আছে এবং তার সাথে যোগাযোগ করার কোন মোবাইল নাম্বার এ প্রতিবেদককে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে আরেক অভিযুক্ত ওই কন্সটেবলের বাবা আব্দুল মালেকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে টালবাহানা করে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তানভীরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। খুব শীঘ্রই দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।