ঠাকুরগাঁওয়ে মিলি হত্যাকাণ্ডের কোনো অগ্রগতি নেই, মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর

ঠাকুরগাঁওয়ে মিলি হত্যাকাণ্ডের কোনো অগ্রগতি নেই, মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর
ছবিঃ সংগৃহীত

বিকাশ রায় চৌধুরী,ঠাকুরগাঁও।। ০৯ আগস্ট, সোমবার।। ঠাকুরগাঁও শহরের চাঞ্চল্যকর মিলি চক্রবর্তী (৪২) হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে গত ৫ আগস্ট মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করেছে ঠাকুরগাঁও সদর থানার পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীরুল ইসলাম বলেন, নিখুঁত তদন্তের স্বার্থে সিআইডির কাছে মামলাটি হস্তান্তর করেছি। 

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সিআইডি'র ইন্সপেক্টর আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমরা ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নজরে রেখেছিলাম। সঠিক একটি তদন্ত প্রতিবেদনের স্বার্থে মামলাটির দায়িত্ব নিয়েছে সিআইডি। আশা করি দ্রুতই এর সঠিক রহস্য বেরিয়ে আসবে।

এর আগে, গত ৮ জুলাই সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের মোহাম্মদ আলী সড়কে নিজ বাসার পাশ থেকে মিলি চক্রবর্তী নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি শহরের তাতীপাড়া এলাকার সমীর কুমারের স্ত্রী। পরিবার থেকে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে কোনো মামলা বা অভিযোগ না করলে ঘটনার দুইদিন পর গত ১০ জুলাই ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নির্মল কুমার রায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, গৃহবধূ সান্তনা রায় ওরফে মিলি চক্রবর্তীকে কে বা কাহারা হত্যা করে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তার মরদেহ শহরের তাঁতিপাড়াস্থ বাটা শোরুমের নির্মাণাধীন ভবনের মাঝে সরু গলিতে ফেলে রাখে। প্রাথমিকভাবে এমন তথ্য পাওয়ার পর মৃহের পরিবারকে অভিযোগ দেয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু কোনো এক কারণে তারা অভিযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। 

মামলার বাদী এসআই নির্মল কুমার রায় বলেন, গৃহবধূ সান্তনা রায় ওরফে মিলি চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধারের পর ঘটনাটি আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। মনে হয়েছে কে বা কাহারা তাকে হত্যা করেছে এবং ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য লাশ ওইস্থানে ফেলে রেখেছে। তাই সত্য ঘটনা উদঘাটনের জন্যই নিজে বাদী হয়ে মামলাটি করেছি। 
এদিকে সুরতহাল রিপোর্ট করার সময় গৃহবধূর ডান হাতের কনুই থেকে আঙ্গুল পর্যন্ত, বাম হাতের নিচের অংশ, দুই হাতের নখ, তালু, আঙ্গুল, পায়ের তালু, পায়ের আঙ্গুল ও বাম হাতের কবজির উপরে সুতা বাঁধা স্বাভাবিক পাওয়া যায়।  তবে মাথার চুল খোপা বাঁধা, ভ্রুর চুল, চোখের পাতা আংশিক পোড়া ছিল।  এছাড়া কোমড়ের নিচ অংশ থেকে পায়ের তালুর ওপরের অংশের বিভিন্ন জায়গায় পোড়ানো ছিল।  কপালের চামড়া, জিহবা, ঠোঁট, থুতনি, কান, গলা, বুক, পেট, তল পেট, ডান হাতের বাহু থেকে কনুই পর্যন্ত ও বাম হাতের কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত এবং যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথ ঝলসানো পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়।

অন্যদিকে গৃহবধূর নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিলো এবং জিহ্বা বাহিরে দাঁত দিয়ে কামড়ানো অবস্থায় ছিলো।  তার শরীরের বস্ত্রের ডান হাতের বাহুর জামার কিছু অংশ এবং দুই পায়ের হাঁটুর নিচে পায়জামার কিছু অংশ পোড়া অবস্থায় দেখা গেলেও পোশাকের বাকি অংশ পুড়ে ছাই হওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিহত মিলির পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শহরের এক ব্যক্তি মিলি চক্রবর্তীর ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কিছু অপ্রীতিকর মেসেজ পাঠানোকে কেন্দ্র করে পরিবারে ঝামেলার শুরু হয়। ঘটনার দুইদিন আগে সেই মেসেজগুলো মিলির বড় মেয়ে দেখতে পেয়ে বাসার অন্য সদস্যদের জানা। এরপর থেকেই কলহের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় লজ্জায় আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি মিলির পরিবারের।   

তবে মিলির প্রতিবেশীসহ স্থানীয় অনেকেই বললেন, এ ঘটনার সঙ্গে মিলি হত্যাকাণ্ডের কোনো সূত্রপাত থাকতে পারে। সম্মানের ভয়ে হয়তো মিলির পরিবার থেকে কোনো মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি।