ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামীর দেওয়া  আগুনে ঝলসে গেছে গৃহবধুর শরীর

ঠাকুরগাঁওয়ে স্বামীর দেওয়া  আগুনে ঝলসে গেছে গৃহবধুর শরীর
ছবিঃ সংগৃহীত

বিকাশ রায় চৌধুরী,ঠাকুরগাঁও।। ২৫ এপ্রিল, রবিবার।। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মারপিটের পরে স্ত্রীর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার অভিযাগ পাওয়া গেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই গৃহবধু ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

শনিবার(২৪ এপ্রিল) আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এমনই অভিযােগ করেন গৃহবধু মাহফুজা আক্তার (৩৫)। 
পরিবারের সদস্যরা জানায়, প্রায় ১৮ বছর আগে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়ােল ইউনিয়নের ছাট সিংগিয়া গ্রামের পজির উদ্দীনের ছেলে সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় সদরের আখানগর ইউনিয়নের মধ্য ঝাড়গাঁও গ্রামের মকবুল হােসনের মেয়ে মাহফুজা আক্তারের। বিয়ের পর থেকে প্রায় সময় মাহফুজা আক্তারকে মারপিট করে তার স্বামী সাদেকুল ইসলাম। 
স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার এসব বিষয়ে আলােচনার মাধ্যমে সমাধান করে দিয়েছেন। তারপরও থেমে নেই গৃহবধু মাহফুজা আক্তারের উপর তার স্বামীর নির্যাতন। ওই গৃহবধুর ২টা মেয়ে ও ১টা ছেলে সন্তান রয়েছে। 
চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধু মাহফুজা আক্তার বলেন, গত মঙ্গলবার আমি রােজা ছিলাম। বিকেলে বাড়িতে ফিরে কােন কারণ ছাড়াই আমার স্বামী সাদকুল ইসলাম আমাকে মারপিট শুরু করে। যেহতু রােজা ছিলাম তাই আমি কােন প্রতিবাদ করিনি। তারপরের  দিন বুধবার সকাল আমার শরীর আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামী। এতে আমার শরীরের পেছনের অংশ ঝলসে গেছে। এর আগেও অনেকবার আমাকে আমার স্বামী মারপিট করছিল, স্থানীয়ভাবে ঘটনাগুলাের মিমাংশা হয়েছিল। 
পরে পরিবারের লােকজন গৃহবধু মাহফুজা আক্তারকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে ভর্তি করে। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। 
গৃহবধুর বাবা মকবুল হােসেন বলেন, আমার মেয়ের শরীর জামাই আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মেয়ের শরীরের পেছনের অংশ ঝলসে গেছে। সে বর্তমানে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা ভাল নয়, আমরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাই, কিন্তু জামাই সাদেকুল ইসলাম নিতে দেয়না, সে আমাদেরকে উল্টাে হুমকি ধমকি দিচ্ছে, আমাদেরকে নাকি সে পুলিশে ধরিয়ে দিবে। 
তিনি বলেন, আমরা অসহায় ও গরীব মানুষ হওয়ার কারণে প্রায় সময় আমার মেয়ের উপর এমন অত্যাচার নির্যাতন করে জামাই সাদেকুল ইসলাম। আমি এ ঘটনায় জামাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। 
অভিযুক্ত স্বামী সাদেকুল ইসলাম বলেন, আমি আমার স্ত্রীর শরীর আগুনে ধরিয়ে দেইনি। সে ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজেই তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এখন আমাকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে স্ত্রীকে মারপিট করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যেই ঝগড়া বিবাদ হতো বর্তমানে আর হয়না।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রকিবুল আলম চয়ন বলেন, আগুন দিয়ে গৃহবধু মাহফুজা আক্তারের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে তার শরীরের পেছন অংশের ১৫ শতাংশ ঝলসে গেছে। তাকে আমরা নিবির পর্যবেক্ষণে রেখেছি এবং হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। 
এ বিষয় বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধান বলেন, গৃহবধুর শরীরে তার স্বামী আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এ ধরনের কােন লিখিত অভিযাগ কেউ করেনি। অভিযােগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।