ঠাকুরগাঁওয়ে সহিংসতার ঘটনায় মামলা: গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকাবাসী

ঠাকুরগাঁওয়ে সহিংসতার ঘটনায় মামলা: গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকাবাসী
ছবিঃ সংগৃহীত
স্টাফ রিপোর্টার,ঠাকুরগাঁও ।। ঠাকুরগাঁওয়ে ইউপি নির্বাচনে  মেম্বার প্রার্থীর ভোটের  ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ভোট পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ  চিত্ত রঞ্জণ রায়  সোমবার দিবাগত রাত ১টায়  এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি চিত্ত রঞ্জন রায় বলেন, রুহিয়া থানায় রাজাগাঁও ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র দক্ষিণ আসাননগর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার তৌকির আহম্মেদ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাত ৪শ থেকে ৫শ জনকে আসামী করা হযেছে বলে জানিয়েছেন ওসি। 
মামলার এজাহার সূত্রে ওসি জানান, সরকারি কাজেব বাধা, প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং  এবং পুলিশের উপর লাঠিসোটা দিয়ে আঘাত করার দায়ে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তবে মমলার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। 
এদিকে  সহিংসতার ঘটনায়  মামলা দায়েরের পর থেকে এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। সারা আসাননগর এলাকা ঘুরে দেখা যায় শুনসান নীরবতা। ভোটের পরে জয়ের আমেজও সারা ওয়ার্ডে লক্ষ্য করা যায়নি।
রাস্তায় কথা হয় সাইকেল আরোহী স্থানীয় খোরশেদ আলমের সাথে। তিনি বলেন, মামলার খবর শোনা মাত্র এলাকার মানুষের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাত থেকে মামলা কথা শুনে এলাকায় পুরুষ শুণ্যতা দেখা দিয়েছে।
রহিমা বেগম নামের এক হোটেল শ্রমিক বলেন, ভোটকেন্দ্রের গোলাগুলির ঘটনায় আমার খুব ভয় লেগেছে। এখন মামলার কথা শুনে স্বামী সন্তানদের জন্য চিন্তা হচ্ছে। আমরা গরীব মানুষ। আমাদের একদিন কাজ না করলে খাবার জুটবেনা। এখন ভোট যেন আমাদের কাল হয়ে দাড়ালো। খুব চিন্তায় আছি। আমি অনুরোধ করবো পুলিশ যেন শুধু দোষীদের ধরে নিয়ে গিয়ে শাস্তি দেয়।
এ বিষয়ে ওসি চিত্তরঞ্জণ রায় বলেন, সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারন নেই। পুলিশ নির্দোশ কাউকে আটক বা হয়রানি করবেনা। তদন্তে যারা প্রাথমিকভাবে দোষী প্রমাণিত হবে তাদেরকেই গ্রেপ্তার করা হবে এবং এলাকাবাসী ও সাধারণ ভোটারদের জন্য নিরাত্তা আরও জড়ালো করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,  সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ আসাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভোট কেন্দ্রে  ‘কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে বের হওয়ার সময় ভোটের ফলাফলকে কেন্দ্র করে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর লোকজন প্রিজাইডিং, সহকারি প্রিজাইডিং ও পুলিশের উপর  আক্রমণ করে। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। তার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তার নির্দেশে গুলি করা হয়।’ এতে স্থানীয় তসীর উদ্দীনের ছেলে হামিদুল ইসলাম(৬৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়।