ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হওয়ার খবরটি গুজব বললেন, সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।

ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হওয়ার খবরটি গুজব বললেন, সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।
ছবি: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার।। “অবশেষে চালু হচ্ছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর ” এ খবরটি ছড়িয়ে পড়লে সারা জেলা জুরে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের জোয়ার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্লাটফর্মে আসতে থাকে অভিনন্দন। তবে খবরটি নিতান্তই গুজব বলে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও ১ আসনের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন এবং জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমান। 

৪২ বছর ধরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বিমানবন্দরটি ১৯৪০ সালে ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে মাদারগঞ্জ এলাকায় ৫৫০ একর জমির উপরে নির্মিত করে বৃটিশ সরকার । স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার সঙ্গে এর যোগাযোগ ছিল কিন্তু ১৯৮০-৮১ সালে লোকসানের অজুহাতে এ বিমান বন্দরটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনগণের দাবির মুখে ১৯৯৪ সালে  ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রানওয়ে মেরামতসহ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়। টাকা খরচ হয় ঠিকই, কিন্তু বিমানবন্দর আর চালু হয়নি। পরবর্তীতে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ বিমান বন্দরটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সে উদ্যোগও ভেস্তে যায়। ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ঠাকুরগাঁওয়ে এসে বিমানবন্দর পরিদর্শন করে ১ বছরের মধ্যে চালু করার আশ্বাস দেন। তিনিই আবার পরের বছর ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল ঠাকুরগাঁওয়ে এসে বলেন, বিমানবন্দর চালু করা সম্ভব নয়। 

বর্তমানে বিমানবন্দরের রানওয়েটি স্থানীয় গ্রামবাসী যে যার মত করে ব্যবহার করে আসছে। সারা বছরই এর রানওয়েতে ধান, গম ও ভুট্টা সহ গৃহস্থালি পণ্য সামগ্রী শুকানোর কাজ চলছে। কেউ কেউ আবার ভুট্টা মাড়াইয়ের ম্যাশিন পর্যন্ত বসিয়ে নিয়েছেন এখানে। ঈদ, পূজো সহ বছরের বিভিন্ন বিশেষ দিনগুলো শিশু ও তরুণ তরুণীরা রানওয়েটি বিনোদনের জায়গা হিসেবেও বেছে নিতে শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে  ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মাহাবুবুর রহমান বলেন “বিমানবন্দর সম্পর্কে আমি একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছি মন্ত্রণালয়ে। আমার এ ব্যাপারে কারিগরী জ্ঞান নেই। আদৌ এটা চালু করা সম্ভব কি না তা তারাই বলতে পারবেন। তবে সহসাই এটা চালু হচ্ছে এমন ভাবার কোন কারণ নেই।

বিষয়টি সম্পর্কে ঠাকুরগাঁও -১ আসনের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনর বলেন “সবার আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পূরণ অর্থাৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ইপিজেড ও ফুড প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। এই উন্নয়নগুলি ধারাবাহকভাবে হবে। তারপর মেডিক্যাল কলেজ ও বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। বিমানবন্দর শীঘ্রই চালু হবে এমন ধারণা ঠিক নয়”।

এতে সহজেই অনুমান করে নেয়া যায় দু’চার বছরের মধ্যে বিমান বন্দর চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ। ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হলে এই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে নিঃসন্দেহে। নানা প্রতিবন্ধকতায় বারবার মুখ থুবড়ে পড়ছে এ সম্ভাবনা। ঠাকুরগাঁওবাসীর দাবি এবং সম্ভাবনার দিকটি বিবেচনায় এনে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন এমনটিই আশা করেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।