ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির সংকট

ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির সংকট
ছবিঃ বিকাশ রায় চৌধুরী
বিকাশ রায় চৌধুরী,ঠাকুরগাঁও।। ১২ মার্চ, শুক্রবার।। 
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের বাইরে থেকে পানি এনে রোগী ও স্বজনদের পান করতে হচ্ছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে নষ্ট নলকূপটির পাশে দুর্গন্ধযুক্ত ও নলকূপের চারপাশে রয়েছে ময়লার স্তুপ। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে রোগী ও স্বজনরা।

ঠাকুরগাঁও ২০০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালের ২টি নলকূপই বিকল হওয়ায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হাসপাতালের ভর্তি প্রায় তিন শতাধিক রোগীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন রোগীর স্বজনরা। বাধ্য হয়েই হাসপাতালের বাইরে গিয়ে অনেক দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে তাদের। বিশুদ্ধ পানি সংকটে কারণে রাতের বেলা অনেক রোগীকে বাথরুমের ট্যাপ থেকে নোংরা পানি পান করতে হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সদর হাসপাতালে প্রায় ২/৩ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। আর প্রায় চার থেকে পাঁচ শতাধিক রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া রোগী ও স্বজনদের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে হাসপাতালের ২টি নলকূপ। নলকূপ বিকল হওয়ায় হাসপাতালের খাবার পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা আলেয়া বেগম বলেন, হাসপাতালে খাবার পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। বাইরের হোটেল কিংবা খাবার দোকান থেকে পানি আনতে হয়। সোমবার রাত দেড়টার দিকে পানির দরকার হলে বাইরে গিয়ে খেয়ে আসতে হয়।
হাসপাতালের প্রধান গেটের বাম পাশে থাকা নলকূপটি নষ্ট। অপরদিকে শিশু বিভাগের সামনের নলকূপটিও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। বাধ্য হয়ে প্রায় দূরে একটি মসজিদের সামনের টিউবওয়েল থেকে পানি সরবরাহ করছেন এখানকার রোগীর স্বজনরা।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর গ্রামের ইসমেতারা বলেন, আমার মেয়েকে নিয়ে বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। হাসপাতালের নলকূপ নষ্ট থাকায় রাতে পানি সংগ্রহ করতে পারিনি। ভোরে হাসপাতালের বাইরে থেকে এক বোতল পানি আনি। এভাবে সকল রোগীই পানি সংকটে রয়েছেন বলে তিনি জানান।
রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালের পাইপ লাইনে যে পানি আসছে, তাতে ময়লা ও পোকা থাকায় তা পানের অযোগ্য। তবে, সে পানি দিয়ে ধোয়া-মোছার কাজটি করছেন তারা।
ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান বলেন, পানি সমস্যার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তবে, তিনি দায়িত্বে থাকা ওয়ার্ড মাস্টারদের রোগীদের যাতে খাবার পানি সরবরাহে কোনো কষ্ট না হয় এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, পানি সমস্যার বিষয়টি নিশ্চিত হলে অবশ্যই গণপূর্ত বিভাগকে তা সমাধানের জন্য বলা হবে।