“ঢাকার বাউল শিল্পীকে সিলেটে এনে ধর্ষণ”

“ঢাকার বাউল শিল্পীকে সিলেটে এনে ধর্ষণ”
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস।। 19 মে, বুধবার।। সিলেটে গানের বায়নার কথা বলে ডেকে এনে ঢাকার এক বাউল শিল্পীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এবং ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
এ ঘটনায় গত ২২ এপ্রিল সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন ধর্ষণের শিকার বাউলশিল্পী। তবে এখনো অভিযুক্ত ধর্ষক বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো আসামিদের হুমকি-ধামকির মধ্যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী নারী।
মামলার আসামি অভিযুক্ত বাবুল মিয়া (৪২) সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ধরাধরপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার শরীফে বিভিন্ন সময়ে খাবার বিতরণ করেন। বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার বাউলশিল্পী ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল দুপুরে গানের বায়নার কথা বলে বাদী বাউলশিল্পীকে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার সাগরদিঘী পাড়ার ২৩ নম্বর বাসায় নিয়ে যান অভিযুক্ত বাবুল মিয়া ও তার সহযোগীরা। নিচ তলার একটি কক্ষে নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন বাবুল। এ সময় বাবুলের সঙ্গে থাকা নিজাম ও শাহিন এবং অজ্ঞাত আরও একজন সহায়তা করে। ধর্ষণের পুরো দৃশ্য শাহিন এবং নিজাম তাদের মোবাইল ফোনে ধারণ করে। এরপর এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগী ওই নারীর সঙ্গে থাকা ৭ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় তারা। ঘটনাটি কাউকে না জানাতে ওই নারীর কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
ধর্ষণের শিকার বাউলশিল্পী বলেন, মামলা করে আমি আরও বিপদে পড়েছি। আসামিরা প্রতিনিয়ত আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। অথচ ধর্ষক বাবুল মিয়া প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ এবং মাজার কতাকে চেনে। প্রভাবশালী বলে পুলিশ তাকে ধরছে না। কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। আর আমি ধর্ষণের শিকার হয়ে বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।
যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক(এসআই) আতিকুর রহমান বলেন, ওই মামলায় শাহিন নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত বাবুল মিয়া সিলেট ছেড়ে পালিয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তিনি পুলিশের সামনে ঘুরছেন এমন অভিযোগ সত্য নয়। তবে, আজ (সোমবার) মূল আসামির অবস্থান কিছুটা নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা হবে।