তিন বছর সংসার করে প্রেমিককে কু.পি.য়ে হ.ত্যা

তিন বছর সংসার করে প্রেমিককে কু.পি.য়ে হ.ত্যা
ছবি: সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট।। সাভারের আশুলিয়ায় অটোরিকশা চালক আলী নূর হত্যা মামলার মূল আসামী আহিনা খাতুন (২৯)’কে নারায়নগঞ্জের কাঁচপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪।

মোছাঃ আহিনা খাতুন’কে ২ আগস্ট রাতে নারায়নগঞ্জ জেলার কাঁচপুর এলাকায় সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব সূত্রে প্রকাশ জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, নিহত আলী নূর বিশ্বাস মাগুড়া জেলার শ্রীপুর থানার হোগলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। সে চাকুরির সন্ধানে ২০১৪ সালে ঢাকায় এসে প্রথমে গার্মেন্টসকর্মী হিসাবে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে বিগত কিছুদিন যাবৎ অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। প্রায় তিন বছর আগে ভিকটিমের সাথে আসামীর পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে গভীর সখ্যতা গড়ে উঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে তারা দুজনই একসাথে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেয়। এমতাবস্থায় বিবাহ ব্যতিরেকে তারা নিজ নিজ পরিবারকে না জানিয়েই স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে আশুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতে থাকে। গত ০৩ বছরে তারা ০৫ বার বাসা পরিবর্তন করেছে। জুলাই মাসের শুরুতে হত্যার শিকার ভিকটিম আলী নূর বিশ্বাস কিছু দিনের জন্য মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার গ্রামের বাড়ি গেলে আহিনা খাতুন জানতে পারে যে, গত ১৪/০৭/২২ তারিখে আলী নূর তার গ্রামের বাড়িতে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে। ভিকটিম আলী নূর ১৭ জুলাই ঢাকায় ফিরে আসে। ভিকটিম আলী নূর এর বিয়ের কথা জানতে পেরে আসামীর মনে প্রচন্ড ক্রোধ এবং প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রতিহিংসা ও ক্রোধের বিষয়টি সে আসামির নিকট গোপন রেখে ভিকটিম আলী নূর’কে গোপনে হত্যার পরিকল্পনা করে।

তাদের মধ্যকার মান-অভিমান চলতে থাকলেও ভিকটিম গ্রামের বাড়ি হতে আশুলিয়ায় আসার পর আসামী দুরভিসন্ধিমূলকভাবে ভিকটিমকে কৌশলে গত ২৯/০৭/২২ তারিখ আশুলিয়ার জিরাবো নামাপাড়া এলাকায় জনৈক দেলোয়ার বেপারী এর টিনশেড বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করতে শুরু করে। গত ৩০/০৭/২২ রাতের খাবার শেষে উভয়েই ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু আসামী ঘুমের ভান করে থাকলেও প্রকৃতপক্ষে সে ঘুমায়নি। হত্যার পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক আহিনা খাতুন সেদিন ভোররাতে ভিকটিমকে ঘুমন্ত অবস্থায় বটি দিয়ে মাথা, গলা এবং বুকে নৃশংশভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। আসামীর বক্তব্য অনুযায়ী রক্তাক্ত লাশ দেখে সে কিছুটা ভয় পেয়ে যায় এবং লাশটি কাঁথা চাপা দিয়ে রাখে। হত্যার পরে তার থালা-বাসন, কাপড় চোপর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি একটি বস্তায় ভরে অনুমান ভোর ০৬.০০ ঘটিকায় ঘরে তালা দিয়ে বস্তাটি নিয়ে হেটে প্রথমে জিরাবো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসে। সেখান থেকে বাস যোগে আবদুল্লাহপুর আসে। আব্দুল্লাহপুর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার বাসযোগে কুড়িল বিশ্বরোডে আসে। পরবর্তীতে কুড়িল বিশ্বরোড হতে বাসযোগে নারায়নগঞ্জের কাঁচপুর এলাকায় আসে। সেখানে আসামী আহিনা নিজেকে চাকুরীপ্রত্যাশী গার্মেন্টসকর্মী পরিচয় দিয়ে ২২০০ টাকায় ভাড়ায় জনৈক বয়স্ক ব্যাক্তি মজিবুরের সহযোগীতায় একটি টিনশেড বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠে এবং আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে আসামী আহিনা বিবেকের তাড়নায় ৩১ জুলাই বিকাল ০৪.০০ ঘটিকার দিকে ভিকটিম আলী নূর এর মোবাইলের মাধ্যমে ভিকটিমের ভগ্নিপতি জনৈক জাকিরকে জানায় যে, আলীনূর অসুস্থ অবস্থায় আছে তাকে বাঁচাতে তার পরিবার যেন দ্রুত আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় দেলোয়ার বেপারীর টিনশেড ভাড়া বাসায় যান। ০১ আগস্ট অনুমান ০২.১৫ ঘটিকার দিকে সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন জিরাবো এলাকায় দেলোয়ার বেপারীর ভাড়া দেওয়া টিনশেড বাসায় গিয়ে দেখতে পায় যে রুমের দরজা বাহির হতে তালাবদ্ধ। তারা বাসার মালিক ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় জানালা খুললে রুমের ভিতর হতে তীব্র দুর্গন্ধসহ মেঝেতে কাঁথা মোড়ানো অবস্থায় চিৎ হয়ে ভিকটিম আলী নূরের লাশ দেখতে পায়। পরবর্তীতে আশুলিয়া থানা পুলিশ উক্ত ঘরের তালা ভেঙ্গে রুমের ভিতর থেকে লাশটি উদ্ধার করে। উক্ত ঘটনাটি প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়াসহ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে সুরতহাল ও ময়না তদন্ত শেষে গত ০২/০৮/২০২২ ইং তারিখ ভিকটিমের বড় ভাই বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪ আসামী গ্রেফতারে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আসামী মোছাঃ আহিনা খাতুন (২৯)’কে র‌্যাব-৪  নারায়নগঞ্জ জেলার কাঁচপুর এলাকা হতে আসামীকে গ্রেফতার করে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামী স্থানীয় নীলফামারীর একটি স্কুল থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করে। তাদের ০৫ ভাইবোনের মধ্যে চতুর্থ। ২০১২ সালে জনৈক মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে তার প্রথম বিবাহ হলেও পারিবারিক কলহের জেরে দেড় বছর পরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। উক্ত পরিবারে তার ০১ টি ছেলে সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে তার সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে ২০১৮ সালে ঢাকায় আসেন এবং আশুলিয়ার একটি গার্মেন্টস এ চাকুরি নেন। চাকুরির সুবাদে ভিকটিমের সাথে তার পরিচয় হয়।  

গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।