তিন শিক্ষকের করোনা পজেটিভ বন্ধ হলো বিদ্যালয়

তিন শিক্ষকের করোনা পজেটিভ বন্ধ হলো বিদ্যালয়
ফাইল ফটো

স্টাফ রিপোর্টার।। নীলফামারীর  কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ক্লাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এবার একটি স্কুলে তিন শিক্ষকের ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার খবর মিলেছে। সেই স্কুলেও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ক্লাস।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিড়াভিজা গোলনা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক। সব শিক্ষক-কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষার জন্য দুই দিন বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এরপর বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
সবশেষ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। বুধবার করোনা আক্রান্তের বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয়টির দুই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
এ ছাড়া গোপালগঞ্জে ২১ সেপ্টেম্বর পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর ওই শ্রেণিতে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর একই জেলায় তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়। আর মানিকগঞ্জে করোনা উপসর্গে বুধবার মৃত্যু হয়েছে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করোনা সংক্রমিত হওয়া নিয়ে সরকার অবশ্য বলছে, তারা যে স্কুল থেকেই সংক্রমিত হচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।
শুক্রবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘স্কুলে এসেই যে শিক্ষার্থীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, তার সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট কিছু জায়গায় দেখেছি, শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছে। আমরা সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি।

নীলফামারীতে আক্রান্ত তিন শিক্ষক হলেন সুশান্ত কুমার রায়, রমিজুল ইসলাম ও আব্দুল জলিল। তারা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। তিন শিক্ষকই করোনা প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ নিয়েছিলেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল হাসান জায়েদ নওরোজি জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় বুধবার সহকারী শিক্ষক সুশান্ত কুমার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিন অন্য দুই শিক্ষক নমুনা দিলে তাদেরও করোনা শনাক্ত হয়।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার ও রোববার বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার ভৌমিক বলেন, ‘যেহেতু তিন শিক্ষক আক্রান্ত হয়েছেন, সে কারণে অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য দুদিন বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সোমবার থেকে ক্লাশ শুরু হবে। করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’