দুই নাম্বার সনদ নিয়ে তিন নাম্বার স্বামীর ঘরে বাউফলের সেই কিশোরী নাজনিন

দুই নাম্বার সনদ নিয়ে তিন নাম্বার স্বামীর ঘরে বাউফলের  সেই কিশোরী নাজনিন
ছবিঃ সংগৃহীত

মো.ফোরকান,বাউফল,পটুয়াখালী।। ৩০জুন,বুধবার।।পটুয়াখালীর বাউফলে সেই আলোচিত চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের দ্বিতীয় স্ত্রী নাজনিন আক্তার নসিমন এখন ৩ নম্বর স্বামীর ঘর করছে। ইতিমধ্যে ঐ চেয়ারম্যানকে শালিশ বৈঠকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কিশোরী বিয়ে করার অপরাধে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ এর ৪ এর (ঘ) ধারার অপরাধের অভিযোগ এনে সাময়িক বরখাস্ত করেন।কেন তাকে চুড়ান্ত অপসারণ করা হবে না তা ১০ কার্য দিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগ পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে নসিমনের তৃতীয় স্বামীর ভাই আল ইমরান শাহীন চেয়ারম্যান সহ ৭ জনকে আসামী করে পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি আর মামলা (২৫৭/২০২১) দায়ের করেন। 

বর্তমান বছরের ১৮মে নসিমনের নানা নানুর মধ্যস্ততায় উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের তাঁতেরকাঠী গ্রামের ফারুক আকনের ছেলে মো. সোহেল আকনের সাথে ২লক্ষ টাকা দেনমোহরে তার প্রথম বিয়ে হয়। বিয়ের অল্পদিনের মাথায় নসিমন সোহেলকে তালাক প্রদান করে এবং তার প্রেমিক রমজানের সাথে পালিয়ে যান।এ ঘটনায় ২৪ জুন শালিশ বৈঠকে নসিমনের বাবা সহ অভিভাকরা রমজানের সাথে বিয়ে না দেয়ার সিদ্বান্ত নেয়।এক পর্যায় শাহিন চেয়ারম্যানের কাছে নসিমনের পরিবারের পক্ষ থেকে বিচার দিলে চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে সালিশ বৈঠকে ডাকেন। সেখানে নসিমনকে পছন্দ হওয়ায় বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে পারিবারিক সিদ্বান্তে ঐ দিনেই চেয়ারম্যানের সাথে নসিমনের দ্বিতীয় বিয়ে হয়।রমজান প্রেমিকা নসিমনের বিয়ের খবর পেয়ে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং বাউফল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থ্য হয়। ২৫ জুন নসিমন চেয়ারম্যানকে তালাক প্রদান করে ২৬ জুন কনকদিয়া নিকাহ রেজিষ্ট্রারের মাধ্যমে প্রেমিক রমজানের সাথে তৃতীয় বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়।
 এ বিষয়ে নাজনিন আক্তার নসিমন তিন বিয়ের কথা স্বীকার করে বলেন,তার বিয়ের বয়স হয়েছে, সে রমজানকে ভাল বেসেছে ,তাকে পয়েছে এবং তার সাথেই থাকবে। 

চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার বলেন,আমি প্রথম স্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষ বয়স সম্পর্কে মেয়ের বাবার স্বীকারোক্তি ও ২০১১ সাল সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান হিরোন সাহেবের সময়কার জন্মনিবন্ধন সনদ দেখে তালাকপ্রাপ্তা নসিমনকে বিয়ে করেছি।
একই চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত  নাজমিন আক্তার নসিমনের জম্ম সনদ একটিতে লেখা ১১-০৪-২০০৩ অপরটিতে লেখা ১১-০৪-২০০৭এবং তার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৮ সনপত্র জন্ম তারিখ ১১-০৪-২০০৭ লেখা। এই নিয়ে  চলছে এখন নানান জল্পনা কল্পনা। তাহলে এরজন্য দায়ী কে?

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন বলেন,এ ঘটনায় মান্যবর হাইকার্ট রুল জারী করেছে এবং পিবিআইকে তদন্তভার দেয়া হয়েছে,তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাজনিন আক্তার নসিমনের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের নজরদারী রয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নসিমন তার প্রেমিক ও তৃতীয় স্বামী রমজানের সঙ্গে অবস্থান করছে।