দুই পদে ২০ লাখ টাকা উৎকোচ: আমি কোন অন্যায় করি না- প্রধান শিক্ষক

দুই পদে ২০ লাখ টাকা উৎকোচ: আমি কোন অন্যায় করি না- প্রধান শিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি।। অর্থের বিনিময়ে নিজের আর্শীবাদপুষ্ট লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কাঠালিয়ার আওরাবুনিয়ার মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রী’র বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে নিয়োগ বঞ্চিতরা ও স্থানীয় সচেতন মহল উক্ত নিয়োগ বানিজ্যের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন ও অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
   অনুসন্ধানে জানাগেছে, গত মার্চ মাসে আওরাবুনিয়ার মডেল হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, অফিস সহকারী ও আয়াসহ মোট ৩টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তৎকালিন কাঠালিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুফল চন্দ্র গোলদার নিয়োগ পরীক্ষার জন্য একাধিক বার তারিখ ধার্য করেন। তবে প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রীর নিয়োগের বিষয় নিয়ে নানামুখী তৎপরতার বিষয়টি লক্ষ্য করে তিনি নিয়োগ পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত রাখেন।
অবশেষে সুচতুর প্রধান শিক্ষক নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগদান করলে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সফলও হন।
   ম্যানেজিং কমিটির একটি সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসরে গত শনিবার (২৭ আগস্ট) সকালে নিয়োগ কমিটির বর্তমান সভাপতি নবাগত
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে ম্যানেজ করে প্রধান শিক্ষক ও নিয়োগ কমিটির কতিপয় সদস্য ‘লোক দেখানো পরীক্ষার মাধ্যমে’ ২০ লক্ষ টাকার
বিনিময়ে উক্ত ৩টি পদের মধ্যে দুটিতে তাদের আর্শীবাদপুষ্ট লোকদের নিয়োগ চূড়ান্ত করেছেন। অন্যদিকে দরদাম চুরান্ত না হওয়ায় কৌশলে আয়া পদের নিয়োগ
স্থগিত রাখেন।
   অভিযোগ রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করা নিলয় রামে যুবকের বাড়ি প্রধান শিক্ষকের নিজের এলাকায়। আর অফিস সহকারী পদে
নিয়োগ চূড়ান্ত করা সুমন মালীকে প্রধান শিক্ষকের ঘনিষ্ট ও তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালক। এই দুই জনের কাছ থেকেই প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রী নিয়োগের জন্য ১০ লক্ষ করে মোট ২০ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহন করেন।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারীকে লোক দেখানো পরীক্ষা নিয়ে এই নিয়োগের বৈধতা দেখানো হয়ে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
  এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্য, শিক্ষকদের সঙ্গে অনিয়ম, বিদ্যালয়ের আয়-ব্যায়ের হিসাব নিয়ে ছলচাতুরী, তার অনুগত শিক্ষকদের কমিটিতে সদস্য করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা অযুহাতে অর্থ আদায়সহ অভিযোগের পাড়ার গড়ে উঠছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি কোন অন্যায় করি না। আমি যা করি সে বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড অবগত আছে। আর নিয়োগ আমি জানিনা সব করছেন ইউএনও স্যার। সংবাদ প্রকাশ করলে আমার কিছু যায় আসে না। ’