দূর্গা পূজার পরে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে হিন্দু শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন 

দূর্গা পূজার পরে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে হিন্দু শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন 
ছবিঃ সংগৃহীত

মাহির আমির মিলন।। জবি প্রতিবেদক।। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দূর্গাপুজার পরে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। 

আজ (রবিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচে 'সনাতনী শিক্ষার্থীবৃন্দ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়' ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, আগামী ৭ অক্টোবরে যদি তাদের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে আসতে হয়। তবে পরীক্ষা মধ্যেই আবার পরিবারের সঙ্গে পুজো উদযাপনের জন্য গ্রামে ফিরতে হবে এবং পূজো শেষে তাড়াহুড়ো করে এসেই পরীক্ষায় বসতে হবে। কারণ অধিকাংশ বিভাগেই পুজোর একদিন পরেই পরীক্ষা রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর মানবিক, শারীরিক ও অর্থনৈতিক চাপ পড়বে।

সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গা পুজা যা ১১ অক্টোবর ষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর বিজয় দশমীর মধ্যে দিয়ে শেষ হবে। এই উপলক্ষে অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহমদ এক মিটিং এ ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা আগামী ১১-১৬ অক্টোবর কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছে এক বিজ্ঞপ্তিতে। সেই সাথে বলেন কোনো বিভাগ চাইলে পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারবে। 

সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা চাই ৭ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা না হোক। কারণ এই সময়ে আমাদের পুজোর আগে পরে কিছু প্রস্তুতি থাকে যা শেষ করে কোনো শিক্ষার্থী ভালোভাবে পরীক্ষায় বসতে পারবে না। তার মাথায় একটা বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হবে। তাছাড়াও আগামী ১৯ অক্টোবর সরকারি ছুটি এবং ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। তাই আমরা চাই এসব বিষয় বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের যৌক্তিক দাবিটা মেনে নিবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশ না করার শর্তে সনাতন ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের উৎসবকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি আমাদের অনেক শিক্ষক বলেছেন, একবছর পূজা না করলে কিছু আসে–যায় না। প্রতিবছর এই যে মা–বাবার সঙ্গে পূজা উদ্‌যাপন করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম আছে নাকি। 

নৃবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নীলপদ্ম রায় বলেন, ‘দেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজার আগে বা পরে তারিখের কাছাকাছি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করে না। তাহলে আমাদের পরীক্ষা রুটিন কেন দিয়েছে? কর্তৃপক্ষ চাইলে যেকোনো সময় পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে নিতে পারে।’