দেশে করোনায় একদিনে আরও ৪৫ মৃত্যু 

দেশে করোনায় একদিনে আরও ৪৫ মৃত্যু 

দেশে করোনায় গত একদিনে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৪৩৬ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়।সেখানে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ২ হাজার ৪৩৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৪ হাজার ৫৮৩ জন হল।আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ৪৫ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ১২৭ জনে দাঁড়াল। আইইডিসিআরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৩ হাজার ২৭৫ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৮ জন হয়েছে।বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, বুধবার তা তিন লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৫ অগাস্ট সেই সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৫তম স্থানে। তার মৃতের সংখ্যায় বাংলাদেশ রয়েছে ২৯তম অবস্থানে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৯২টি ল্যাবে ১৫ হাজার ১২৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১৫ লাখ ৩৮৫টি নমুনা।২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ । শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৬৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৪ জন, নারী ১১ জন। তাদের মধ্যে ৪২ জন হাসপাতালে এবং ৩ জন বাড়িতে মারা গেছেন।তাদের মধ্যে ২৫ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ১১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।২২ জন ঢাকা বিভাগের, ১০ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ১ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫ জন খুলনা বিভাগের, ১ জন সিলেট বিভাগের এবং ৬ জন রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৪ হাজার ২৮ জনের মধ্যে ৩ হাজার ২৪২ জনই পুরুষ এবং ৮৮৫ জন নারী। তাদের মধ্যে ২ হাজার ২৮ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ১ হাজার ১৪০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৫৫৪ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২৫৪ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৯৬ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৩৬ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ১৯ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৯০ জন ঢাকা বিভাগের, ৯০৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ২৭৭ জন রাজশাহী বিভাগের, ৩৪০ জন খুলনা বিভাগের, ১৫৯ জন বরিশাল বিভাগের, ১৮৭ জন সিলেট বিভাগের, ১৭৭ জন রংপুর বিভাগের এবং ৮৯ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।