দেশি গরুর খামার করে স্বাবলম্বী সিলেটের জসিম

দেশি গরুর খামার করে স্বাবলম্বী সিলেটের জসিম
ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেট অফিস।। ০৮ জুলাই, বৃহস্পতিবার।। সিলেটের এমসি কলেজ থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করে সরকারি চাকুরির পেছনে না ঘুরে দেশি গরুর খামার দিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১ নং রুস্তমপুর ইউনিয়নের লামার হাদারপার বহর বাড়ীর জসিম উদ্দিন। ২০১৬ সালে দুইটি দেশি গরু দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তার খামারে দেশি জাতের ২২ টি গরু রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দেশি মোরগ ও ছাগলের খামার গড়ে তুলেছেন। এ মোরগ ও ছাগলের খামার করে ও তিনি লাভের মুখ দেখেছেন।
সরকারি চাকরি না খুঁজে নিজেই নিজের পায়ে দাঁড়ানো যায় জসিম উদ্দিন তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। যেখানে সরকারি চাকুরি খোঁজার পিছনে জীবন থেমে যায়,সেখানে খামার করার চিন্তা মাথায় আসে তার। মাত্র দুইটি দেশি গরু দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। এই খামার থেকে সকল খরচ বাদ দিয়ে তিনি প্রতিমাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা লাভ করেন। মাত্র একজন শ্রমিক দিয়েই তিনি খামার পরিচালনা করছেন।তার খামারে তিনি নিজে কর্মকর্তা নিজেই কর্মচারী।
সব বাধা পেরিয়ে জীবনযুদ্ধে সফল এক ব্যক্তি জসিম উদ্দিন। তার এমন সফলতায় এলাকার অনেক নারী, পুরুষ ও শিক্ষিত বেকার যুবকরা আগ্রহী হচ্ছেন খামারের প্রতি। এলাকায় তিনি এখন অনেকের কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।
জসিম উদ্দিন জানান, আমি গবাদি পশুর খামার করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছি। আমার এই খামার দেখে আশাপশের শিক্ষিত বেকার যুবকরাও গবাদিপশু পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। এমনকি গবাদিপশুর গোবর দিয়ে গর্তে রেখে জৈব সার তৈরি করে কোন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করে শাক-সবজি ফলিয়ে বারোমাস পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আর্থিক মুনাফা অর্জন করি।
তিনি বলেন দেশি গরুর খামারে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি, কারণ এটা মোটাতাজাকরণে কোন ঔষধ ব্যবহার করা হয় না। প্রাকৃতিক ঘাস লতাপাতা খড় ভূসি ইত্যাদি দিয়ে খামারের মধ্যে খাদ্য তৈরি করে যতœসহকারে লালন পালন করা হয়। ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার ভিতরেও থাকে এবং দেশি গরুর ফ্রেশ মাংস পাওয়া যায়। দেশি গরুর খাদ্যে ক্ষতিকারক কোন উপাদান না থাকায় এখানে সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না। আরো বাড়তি সুবিধা হচ্ছে বিক্রি করার জন্য হাট বাজারে নেওয়া লাগে না, ক্রেতারা মোবাইলে কথাবার্তা বলে,  এসে দেখে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে বাড়িতেই বারোটি গরু বিক্রি করে নিয়েছি,খামারে এখন রয়েছে দশটি গরু।
বর্তমান শিক্ষিত বেকার তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,শিক্ষিত বেকার ভাইয়েরা চাকুরির পেছনে ছুটে বেড়ান। তারা এটা নিজেরা করলে আমার মতো তারা মানুষকে চাকরি দিতে পারবে। তিনি আরো বলেন, এ খামারকে আমি আরো অনেক বড় করতে চাই। এটি হবে উপজেলার একটি আধুনিক মডেল খামার।
যারা এই ধরনের খামার করতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রথমে ছোট থেকে শুরু করবেন, অনেক কিছু শিখা হয়ে যাবে। পরে লস হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না, নিজেকেই পরিশ্রমই হতে হবে, ধৈর্য হারালে চলবে না সাহস নিয়ে কাজ করতে হবে। এখানে পুঁজি কোন ব্যাপার না ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট।