ধোনি যে কারণে ‘সবচেয়ে স্পেশাল’

ধোনি যে কারণে ‘সবচেয়ে স্পেশাল’

ধোনি যে কারণে ‘সবচেয়ে স্পেশাল’
মহেন্দ্র সিং ধোনি/ছবি: সংগৃহীত

১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিলেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। শনিবার (১৫ আগস্ট) এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে বিষয়টি জানান তিনি নিজেই।

২০০৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বে অভিষেক হয় ধোনির। সেখান থেকে একসময় ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’। চলুন ধোনির সাফল্যগাঁথায় নজর বুলিয়ে আসা যাক,

ধোনির নেতৃত্বে স্বপ্নের মতো সাফল্য পেয়েছে ভারত। ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতিয়ে কিংবদন্তির কাতারে সামিল হন তিনি। এর আগে ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও আসে তার নেতৃত্বেই, যা আবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেক আসর। এই ফরম্যাটে এটাই ভারতের এখন পর্যন্ত একমাত্র শিরোপা।  

ধোনির নেতৃত্বে ২০১০, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা ঘরে তুলে ভারত। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জেতার এমন কীর্তি নেই আর কোনো অধিনায়কের দখলে।

শুধু ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিই নয়, ধোনির নেতৃত্বে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠেছিল ভারত। শুধু কি তাই, ২০১০ এবং ২০১৬ এশিয়া কাপের শিরোপাও জিতিয়েছেন তিনি।  

জাতীয় দল ছাড়াও আইপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক ধোনি। তার নেতৃত্বে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি চেন্নাই সুপার কিংস ৩টি শিরোপা জিতেছে। এবছর চতুর্থ শিরোপা জেতার লক্ষ্যে মাঠে নামবেন এই কিংদবন্তি।

ভারতের জার্সিতে ৩৫০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা ধোনি এই ফরম্যাটে করেছেন ১০ হাজার ৭৭৩ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ১৮৩ রান। এই ফরম্যাটে তার সেঞ্চুরি আছে ১০টি আর ফিফটি আছে ৭৩টি। সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান এই ফরম্যাটে ছক্কা হাঁকিয়েছেন ২২৯টি, যা ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তার ওয়ানডে ব্যাটিং গড় ৫০.৫৩!

উইকেটরক্ষক হিসেবেও ধোনি ছিলেন দারুণ সফল। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩২১টি ক্যাচ নেওয়ার পাশাপাশি ১২৩টি স্ট্যাম্পিং মিলিয়ে উইকেটরক্ষক হিসেবেই তিনি কিংবদন্তি। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার ডিসমিসাল ৮৩৯টি (৬৩৪ ক্যাচ, ১৯৫ স্ট্যাম্পিং), যা উইকেটরক্ষকদের ইতিহাসে তৃতীয় সেরা। তার সামনে আছেন শুধু মার্ক বাউচার (৯৯৮ ডিসমিসাল) এবং অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (৯০৫ ডিসমিসাল)।

২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে মেলবোর্ন টেস্ট শেষে এই পাঁচদিনের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন ধোনি। এরপর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বভার বিরাট কোহলির হাতে তুলে দেন তিনি। ২০০৭ সালে সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়ের হাত থেকে ওয়ানডে নেতৃত্ব পাওয়া ধোনি ২০০ ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ওয়ানডেতে তার জয়ের হার ৫৫ শতাংশ (১১০ জয়, ৭৪ হার, ৫ ড্র এবং ১১টিতে ফলাফল আসেনি)।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ৯৮ ম্যাচ খেলে তার রান ১ হাজার ৬১৭, গড় প্রায় ৩৭। স্ট্রাইক রেট ১২৬.১৩ হলেও তার নেতৃত্বে ২০০৭ বিশ্বকাপ জেতে ভারত। এই ফরম্যাটে তার জয়ের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ (৭২ ম্যাচে ৪২ জয়)।  

একনজরে ‘ধোনি স্পেশাল’:

৩- একমাত্র অধিনায়ক যিনি ৩টি ভিন্ন ভিন্ন আইসিসি’র (২০০৭ টি-টোয়েন্টি, ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০১৩ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) শিরোপা জিতেছেন।

১৯৫- ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি স্ট্যাম্পিং (১৯৫টি)।

১৫০- টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ও প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ১৫০ ম্যাচ জেতার রেকর্ড।

১৮৩*- উইকেটরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ স্কোর (২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ১৮৩ রান)।

৩৩২- অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড (৩৩২)।

৬- একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ৬টি (২০০৭, ২০০৯, ২০১০, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ড।

২০০৭ সালে রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কারবিজয়ী।

২০০৮ ও ২০০৯ সালে আইসিসি’র বর্ষসেরা ওয়ানডে খেলোয়াড়।

২০০৯ সালে পদ্মশ্রী ও ২০১৮ সালে পদ্ম ভূষণ পুরস্কারজয়ী।