নাফনদীতে ভাঙন! শেল্টার নেই বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারের

নাফনদীতে ভাঙন! শেল্টার নেই বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারের
ছবি: সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার,১ জুন।। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে 

শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার।
ইতোমধ্যে তিনতলা সাইক্লোন শেল্টারের পূর্ব-উত্তর পাশ থেকে একাংশের মাটি সরে গেছে। যেকোন সময় নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে পুরো সাইক্লোন শেল্টারটি। ফলে বৃষ্টি হলেই আতংকে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
জরুরি ভিত্তিতে টেকসই জিও ব্যাগের মাধ্যমে জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাত রক্ষা করা সম্ভব না হলে যেকোনো সময় নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় সূত্র জানায়, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া জেলে
পল্লীতে স্বাধীনতার পরবর্তী ১৯৭৩ সালে নাফনদীর বেড়িবাঁধের বাহিরে জেলেপল্লীর শিশু-কিশোরদের কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। একই বছর বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২৬০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে স্কুলের পাঠদান।১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলংকরী ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সৌদিআবর সরকারের আর্থিক সহায়তায় তিনতলা বিশিষ্ট স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণ করা হয়। নতুন এই সাইক্লোন শেল্টারভবনসহ বিদ্যালয়ে তিনটি স্কুল ভবন থাকলেও প্রতিনিয়ত জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাতে তিনতলার সাইক্লোন শেল্টারটি হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে,২০২১ সালে ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ার ও ঢেউয়ের আঘাতে আরও দুটি ভবন হুমকির মুখে পড়েে। তৎসময়ে জিও ব্যাগের মাধ্যমে কিছুটা রক্ষা করা হয় ভবন দু'টি। বর্তমানে অপর ভবনটি ভাঙনে হুমকিতে রয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, নাফ নদীর একের পর এক ঢেউ আঁচড়ে পড়ছে জিও ব্যাগে ওপর। জোয়ারের পানি আর ঢেউয়ের আঘাতে বালিয়াড়ির ভাঙণও বড় হচ্ছে। ঢেউয়ের তোড়ে শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা সাইক্লোন শেল্টারের পূর্ব-উত্তর পাশ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। এতে করে ওই ভবনটি নাফনদীতে বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সহকারি শিক্ষিকা হালিমা আক্তার বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছিল ভবনটি। ওইসময় কিছু অংশে জিও ব্যাগ বসানো হয়। কিন্তু হুমকিতে রয়ে গেছে। তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া না হলে যেকোনো সময় নদীর গর্ভে বিলিন হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দূঘটনা শঙ্কাও রয়েছে বলে জানান এই শিক্ষিকা।
সাবরাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, শাহপরীর দ্বীপের জালিয়া পাড়ার জেলে পল্লীতে একটি মাত্র বিদ্যালয় রয়েছে।পাশাপাশি পুরো এলাকাজুড়ে একমাত্র সাইক্লোন শেল্টার।ঘুর্ণিঝড়ের কোনো সংকেত দেখা দিলে স্থানীয় লোকজন আশ্রয়ের জন্য ছুঁটে সাইক্লোন শেল্টারে। ভবনটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ভবনটি রক্ষা করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, জরুরী ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বর্ষা মৌসুমে ভবনটি নাফ নদীতে বিলিন হবার সম্ভাবনা খুবই বেশি। পাশাপাশি অবস্থানরত আরও দুটি ভবনও হুমকিতে পড়বে।
টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, 
তিনতলা সাইক্লোন শেল্টার যেকোন সময় নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে।  ফলে বৃষ্টি হলেই আতংকে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয় বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
জরুরি ভিত্তিতে টেকসই জিও ব্যাগ বসানোর দাবী জানান তিনি।
এব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কায়সার খসরু বলেন, সাইক্লোন শেল্টার ভবনটি আমি সরেজমিনে পরির্দশন করেছি। জরুবি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি।
তিনি জানান, এবিষয়ে আমি ব্যক্তিগত ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) টেকনাফ উপ-প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উক্ত স্থানে বসানো প্রতিরক্ষা জিও ব্যাগগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারটি হুমকিতে পড়েছেন বলে শুনেছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নির্দেশানা পাওয়ার পর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।