নলছিটিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের পায়তারা : ৭জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ আদালতের

নলছিটিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের পায়তারা : ৭জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ আদালতের
ছবিঃ সংগৃহীত

মানিক হাওলাদার।। স্টাফ রিপোর্টার।।ঝালকাঠী জেলার নলছিটি শহরের ষ্টেশন সড়কে মেসার্স জলিল ষ্টোর নামের প্রায় ১৫ বছরের এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে উচ্ছেদের পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।আদালতে মামলা দায়েরের কথা শুনে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিকে দখলে নেয়ার আয়োজন চলে।নলছিটি পুলিশ ফাঁড়ির ইন চার্জ মোঃ গোলাম মোস্তফার নের্তৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ কেন দেয়া হবে না মর্মে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব),নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার( ভুমি)সহ ৭জনকে ৭দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন। 

জানা গেছে, নলছিটি ষ্টেশন সড়কের মেসার্স জলিল ষ্টোরের প্রোপাইটর মোঃ জলিল ফকির নলছিটি মৌজার এস এ-১ খতিয়ানের হাল ১০৫৮ দাগের. ০১৫ একর সম্পত্তির ৩৫/৭৭ নম্বর ভিটির উপর ১৫ বছর যাবত মুদী মনোহরি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ওই ভিটিটি নলছিটি পৌর এলাকার পরমপাশা গ্রামের মরহুম পুলিশ ইন্সপেক্টর এম,এ মান্নানের স্ত্রী মোসাঃ দিলারা বেগম ও পুত্র এ কে এম সাইফুল আলমের নামে সরকারিভাবে ডিসিআর দেয়া হয়। কিন্তু তারা সরকারি বিধি উপেক্ষা করে মেসার্স জলিল ষ্টোরের মালিক মোঃ জলিল ফকিরের নিকট ভাড়া দেন। সরকারি বিধি মোতাবেক অন্য কাউকে ডিসিআরপ্রাপ্ত জমি ভাড়া কিম্বা মালিকানা প্রদানের নিয়ম নেই। তদুপরি মোঃ জলিল ফকির নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে ব্যবসা পরিচালনাও করে আসছে। সম্প্রতি জলিল ফকির জানতে পারেন যে, উক্ত সরকারি ডিসিআরপ্রাপ্ত মালিকরা তাদের মালিকানা জনৈক ব্যক্তির বরাবরে হস্তান্তর করার পায়তারা চালাচ্ছেন। তখন জলিল ফকির দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত সরকারি ভিটিতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসার সুবাধে তার নিজের নামে একসনা লীজ পাওয়ার জন্য নলছিটি উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভুমি) বরাবরে আবেদন করেন। যার তদন্তও হয়। এরই মধ্যে গত প্রায় এক মাস পূর্বে মেসার্স জলিল ষ্টোর দখলে নেওয়ার জন্য পায়তারা করে। ওই সময় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হলেও হাজার হাজার টাকার পচনশীল মুদী মালামাল থাকার কারনে ৩/৪ দিন পর খুলে দিয়ে এক মাসের মধ্যে দোকান খালি করে দেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে মেসার্স জলিল ষ্টোরের মালিক মোঃ জলিল ফকির গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠির নলছিটি বিজ্ঞ সহকারি জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে দেওয়ানী ১৫৯/২১ নং মোকদ্দমা দায়ের করেন। আদালত শুনানি শেষে কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া হবে না মর্মে ৭ দিনের মধ্যে বিবাদীদের প্রতি কারন দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে সকাল থেকে নলছিটি পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভুমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকান খালি করে দিতে জলিল ফকিরকে নির্দেশ দেন  অথবা তালাবদ্ধ করে দিতে বলেন বলে তার পুত্র মোঃ সুমন ফকির জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার ভুমি মাসুমা আক্তার বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।