নলছিটিতে সেপটিক ট্যাংকের উপর দুই যুগ ধরে ৬ সদস্যের পরিবারের বসবাস

নলছিটিতে সেপটিক ট্যাংকের উপর দুই যুগ ধরে ৬ সদস্যের পরিবারের বসবাস

মানিক হাওলাদার স্টাফ রিপোর্টার।। ০৯ আগস্ট, সোমবার।। প্রশাসনের আশ্বাসের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পায়খানার সেপটিক ট্যাংকের উপর দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বসবাসকারী পরিবার জমি ও ঘর পায়নি। ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মগর ইউনিয়নের উত্তর মগর গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ফখর উদ্দীনের বিল্ডিংয়ের পাশ্ববর্তী সেপটিক ট্যাংকের উপর বাস করা এ পরিবারটিকে ২০১৮ সনে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নলছিটি উপজেলা প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে জমি ও ঘর দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল।

গত ৭ আগষ্ট সরেজমিনে গিয়ে এ প্রতিবেদক দেখতে ও জানতে পান যে, ২০১৮ সনে আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন হোম ভিজিটে গিয়ে বৃদ্ধ মোতাহার হোসেন খানের ৬ সদস্যের একটি পরিবার কে গোয়াল ঘর ও পায়খানার সেপটি টাঙ্কির উপর অমানবিক বসবাসের দৃশ্য দেখতে পান। তিনি ওই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরলে তৎকালীন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মোঃ হামিদুল হকের নির্দেশে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জুপিটার সরেজমিনে পরিদর্শনে যান। তিনি ওই পরিবারটিকে ভুমিহীন হিসেবে জমি ও বসবাসের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আসেন। এরপর ওই পরিবারটি নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভুমি অফিসে বেশ কিছু দিন আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ওই পরিবারের অমানবিক বসবাসের দৃশ্য দেখে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি গরু দেয়া হলে দুই দিন পর চোরেরা তা নিয়ে যায়।

ওই পরিবারের বৃদ্ধা হাওয়া বিবি জানিয়েছেন, দেশ স্বাধীনের পর অভাব-অনটনের কারণে তার স্বামী পাশ্ববর্তী বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে কখনো কিছু চাল,ডাল ও টাকা আনায় তাদের জমি ও বাড়ি-ঘর লিখে নেয়। এরপর থেকে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় কখনো পরিত্যক্ত স্কুল ঘরে,বোর্ড অফিসে, ও খান বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করে আসছেন। সর্বশেষ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তারা মগর গ্রামের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ফখর উদ্দীনের স্ত্রী তার বিল্ডিংয়ের পাশ্ববর্তী সেপটি টাঙ্কির উপরে ও তাদের একটি গোয়াল ঘরে থাকতে অনুমতি দেয়। দীর্ঘ দিন বৃদ্ধ মেতাহার হোসেন ও বৃদ্ধা হাওয়া বিবি গোয়াল ঘরে আর তাদের পুত্র, পুত্রবধু ও তিন ছেলে-মেয়ে সেপটিক ট্যাংকের উপর টিন ও পলিথিন দিয়ে বসবাস করে আসছে। ২০১৮ সনে যখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জমি ও ঘর দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল তখন খুশিতে আটখানা হয়েছিল বৃদ্ধ মোতাহার হোসেন। কিন্তু তিনি জমি ও ঘর দেখে যেতে পারেননি। গত বছর মারা যান বৃদ্ধ মোতাহার হোসেন।
এ ব্যাপারে এই প্রতিবেদক ফেইসবুক লাইভে বিষয়টি তুলে ধরলে আয়ারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশি কয়েক ব্যক্তি ও সাংবাদিক জসিম উদ্দীন খান তারা ওই পরিবারটিকে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়াও নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা শিকদার, সরকারি সহায়তায় গৃহ নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।