নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাঃ কর্তৃক পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি: দুর্ব্যবহারে ফুঁসে উঠেছে আলেম সমাজ 

নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাঃ কর্তৃক পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি: দুর্ব্যবহারে ফুঁসে উঠেছে আলেম সমাজ 
ছবিঃ সংগৃহীত

মানিক হাওলাদার, স্টাফ রিপোর্টার।। ৩০ আগস্ট, সোমবার।। নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মুনিবুর রহমান জুয়েল কর্তৃক আলেম-ওলামাদের পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকিসহ দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে আলেম সমাজ। ৩০ আগষ্ট  সকাল ১০ ঘটিকায় নলছিটি প্রেসক্লাবের সম্মুখে নলছিটি উপজেলা ইমাম কল্যাণ সমিতি ও উপজেলা শাবাব ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে ওই ডাক্তারের বিচার ও অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং স্মারকলিপি পেশ করার কথা রয়েছে। 

জানা গেছে, গত ২৮ আগষ্ট নলছিটি পৌর এলাকার নান্দীকাঠী চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম করোনা পজিটিভ হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে নলছিটি উপজেলা শাবাব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুফতি জয়নাল আবেদীন ও নলছিটি উপজেলা ইমাম কল্যাণ সমিতির কোষাধ্যক্ষ মুফতি সাইফুল ইসলাম শামিম তাকে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। এসময় হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মুনিবুর রহমান জুয়েল করোনা ওয়ার্ডে প্রবেশ করে ধমক দিয়ে তাদেরকে বের হয়ে যেতে বলেন। আলেম-ওলামাদের নিয়ে ব্যঙ্গ করে পর্দা পালনের কথা বলেন। এতে মুফতি সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে পুরুষ- মহিলা করোনা রোগী ভর্তি, কিভাবে পর্দা পালন করা যাবে। তখন আরএমও ডাঃ মুনিবুর রহমান জুয়েল ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আমার মুখের উপরে কথা বলেন, আমি কে জানেন? আমি আপনার ঠ্যাং(পা) ভেঙ্গে ফেলবো। এ বিষয়টি ইমাম কল্যাণ সমিতি অবহিত হয়ে গত ৩০ আগষ্ট এক সভায় ওই ডাক্তারের বিচার দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং স্মারকলিপি পেশ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এতে নলছিটি উপজেলা শাবাব ফাউন্ডেশনও সংহতি প্রকাশ করে। 

এখানে উল্লেখ্য যে, ২০২০ সনে দেশে করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর নলছিটি উপজেলা শাবাব ফাউন্ডেশন নিজস্ব খরচে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণকারী নারী ও পুরুষকে দাফন কাজ সম্পন্ন করে আসছে। এ পর্যন্ত ৪০ জনকে দাফন-কাফন সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও করোনা আক্রান্তদের সকল প্রকার সেবা দিয়ে শাবাব ফাউন্ডেশন ঝালকাঠি জেলায় মানুষের মনের মনি কোঠায় স্থান করে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে করোনা পজিটিভ আক্রান্ত ইমামকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পর শাবাব ফাউন্ডেশনের নের্তৃবৃন্দ ও ইমামদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এ ব্যাপারে মুফতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই ডাক্তার মুনিবুর রহমান জুয়েল ধমক,দুর্ব্যবহার,পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি এমনকি ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। দুই বছর যাবত এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহারের বহু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের ব্যাপারে ডাক্তার মুনিবুর রহমান জুয়েল এ প্রতিবেদককে বলেন, করোনা ওয়ার্ডে ৬/৭ জন হুজুর বেডে বসে থাকতে দেখে তাদেরকে বের হয়ে যেতে বলি। অনেকের মুখে মাস্ক না থাকায় মাস্ক পড়ার জন্য সচেতন করি। ওই করোনা ওয়ার্ডে কয়েকজন মহিলা থাকায় পর্দার কথা বলার পরই হুজুররা ক্ষুব্ধ হয়ে তেড়ে আসে। যা সিসি ফুটেজে আছে বলেও দাবী করেন। তিনি পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকিসহ দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেন।