নেশা দ্রব্য পান করিয়ে ১২ বছরের শিশু ধর্ষণের সহায়তাকারী এক নারী গ্রেফতার

নেশা দ্রব্য পান করিয়ে ১২ বছরের শিশু ধর্ষণের সহায়তাকারী এক নারী গ্রেফতার
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার,১৪ জুন।। পানির সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে ১২ বছরের শিশু ধর্ষণের সহায়তাকারী এক নারী গ্রেফতার র‌্যাব-১৫। ধৃত নারী রোকসানা চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডস্থ গর্জনতলী এলাকার বাসিন্দা। গত রবিবার রাত ৯ টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডস্থ গর্জনতলী এলাকায় গত ২ জুন পানির সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনা নিয়ে সর্বত্র নিন্দার ঝড় উঠে।
ধর্ষণের সাথে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ ঘটনার দিন থেকে অভিযান অব্যাহত রাখে। 
ঘটনার বিবরণে আরো জানা গেছে, গত ২ জুন ওই এলাকার রোকসানা আক্তার নামের এক নারী বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে তারই প্রতিবেশী ১২ বছরের এক শিশুকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। বাড়িতে নিয়ে আসার পর উক্ত রোকসানা আক্তার ওই শিশুটিকে আদর যত্ন করে খাবার খেতে দেয় এবং পানিতে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে তাকে পানি পান করান। পানি পান করার পর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়াতে তাকে পাশের রুমে নিয়ে শুইয়ে রাখে। এরপর উক্ত নারী ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ধর্ষক ইউনুসকে খবর দেয়। ইউনুস উক্ত বাড়িতে এসে রোকসানার সহায়তায় শিশুটিকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের একপর্যায়ে শিশুটি আবার অজ্ঞান হয়ে গেলে তারা শিশুটিকে তার নিজের বাড়িতে হস্তান্তর করেন। শিশুর পরিবার শিশুটির অজ্ঞান হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা সদোত্তর দিতে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করালে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানায় শিশুটি ধর্ষিত হয়েছে এবং তাকে যথাযত চিকিৎসা দেয়া হয়।
কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর 
সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া এন্ড অপারেশনস্) আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী জানান, র‌্যাব-১৫ উক্ত ঘটনা জানার পর থেকে উক্ত ঘটনার সত্যতা যাচাই পূর্বক অক্লান্ত অভিযান পরিচালনা করে গত ১৩ জুন রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে সহযোগী অভিযুক্ত রোকসানা আক্তারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
আটককৃত রোকসানা আক্তারকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক আসামী ধর্ষক ইফনুসকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা র‌্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী। 
উল্লেখ্য-র‌্যাব এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন প্রকার অপরাধ নির্মূলের লক্ষে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছেন। আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ চিহ্নিতকরণ এবং তার প্রতিরোধে র‌্যাব সর্বদা কাজ করছে।