নিষ্প্রাণ সিলেট রেলওয়ে স্টেশন

নিষ্প্রাণ সিলেট রেলওয়ে স্টেশন
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস// নেই যাত্রী, নেই শ্রমিকদের কোলাহল। প্ল্যাটফর্মজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে বগি-ইঞ্জিনগুলো। একটু পর পর বেজে উঠছে না হুইসেল, নেই ট্রেনের ঝকঝক শব্দ। নেই টিকেট কাউন্টারে লম্বা লাইন। ট্রেন ছেড়ে দেবে দ্রুত উঠতে হবে- নেই এমন চিরচেনা দৃশ্য। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একের পর এক ট্রেনের আসা-যাওয়াতে হাজার হাজার যাত্রীর ওঠা নামায় মুখর থাকলেও এখন স্টেশনের চারদিকে লকডাউনের ফলে একেবারে সুনসান নীরবতা। এমন কর্মমুখর পরিবেশ আবার কবে ফিরবে কেউ নিশ্চিত বলতে পারছেন না।
শুধু স্টেশন নয়, আশপাশ এলাকায়ও সব ধরণের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রায়ই বন্ধ রয়েছে। ফলে এলাকাজুড়ে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। রোববার দুপুর আড়াইটায় সিলেট রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সিলেট রেলস্টেশনের সামনের সড়কে যেখানে রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার ভীড় লেগেই থাকতো সেখানে এখন নেই কোনো যানবাহন। মানবশূন্য স্টেশনের সামনের গেটে ঝুলছে তালা। ইঞ্জিনের সাইরেন আর যাত্রীদের হৈ হুল্লোড়ে সারাদিন যে স্টেশন মুখর থাকতো সন্ধ্যা হতে হতেই তা অনেকটা ভুতুড়ে রূপ নেয়। সমস্ত প্রবেশ পথ বন্ধ। ভেতরে চার-পাঁচজন নিরাপত্তারক্ষী দাঁড়িয়ে আছেন।
নিরাপত্তায় থাকা এক আনসার কর্মী জানান, কয়েক বছর ধরে স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছি। কোনো সময় এমন অবস্থা দেখি নাই, মানবশূন্য স্টেশন, সুনসান নীরবতা। এক সপ্তাহ আগের স্টেশনের কথা চিন্তা করলে অবাক লাগে। একটি অদৃশ্য ভাইরাস গোটা স্টেশন নয় শহরই প্রায় জনশূন্য করে দিয়েছে। আল্লাহ জানে আগামীতে কি হবে।
নিরাপত্তা কর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় দেখা মিলল আরো এক রেলকর্মীর। বন্ধের সময় তিনি কী করছেন জানতে চাইলে বলেন, আমাদের ছুটি নেই। ৮ ঘণ্টা করে ডিউটি করতে হচ্ছে। কারণ রেল চলাচল বন্ধ থাকলেও রেলের ইঞ্জিন চালু রাখতে হয়। তা না হলে ইঞ্জিন বসে যাবে। এছাড়া ইঞ্জিনের কোনো সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় পর পর প্রতিটি ইঞ্জিন চালানো হচ্ছে। যাতে কোনো সমস্যা না হয়।
সিলেট স্টেশনের ম্যানেজার জানান, লকডাউনের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও স্টেশনের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদেরকে আসতে হয়। স্টেশন এলাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ জিসিনপত্র রয়েছে-এগুলো দেখতে হয়। অনাগত স্টেশনে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্টেশনের চারদিকে নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন।