পেছাতে পারে সিলেট-৩ আসনের ভোট

পেছাতে পারে সিলেট-৩ আসনের ভোট
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট অফিস।। 29 জুন, মঞ্গলবার।। সিলেট-৩ আসনে যখন নির্বাচনি আমেজ তুঙ্গে, ঠিক তখন সারা দেশে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করলো সরকার।
করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সোমবার থেকে ‘কঠোর’ ও বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন জারি করা হয়েছে। এ সময় জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে, সিলেটেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস। গত ৩ দিনে ১০ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছেন ভাইরাসটি। প্রতিদিনই করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন শতাধিক নারী-পুরুষ। এ অবস্থায় সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে কি-না এ প্রশ্ন জনমনে। নির্বাচন পেছানোর সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরাও।
সিলেট সিভিল সার্জন ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উপনির্বান পেছানোর সম্ভাবনাই বেশি। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী থাকলে স্বাস্থ্যবিভাগ ইসিকে উপনির্বাচন পেছানোর সুপারিশ করবে।
এ বিষয়ে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহা. ইসরাইল হোসেন বলেন, উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণের এখনও এক মাস সময় হাতে আছে। তখন পরিস্থিতি কেমন থাকবে এখনও বুঝা যাচ্ছে না। সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী থাকলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন পেছাতে পারে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের।
তিনি জানান, সম্প্রতি বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে এক বৈঠকে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান এই উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ পেছানোর জন্য ইসি’র কাছে সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত শংকর বলেন, নির্বাচন পেছানের এখতিয়ার স্বাস্থ্যবিভাগের নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিভাগের সুপারিশ ইলেকশন কমিশন ফেলতে পারবে না। তাই সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচনকালীন সময়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করলে বা এর আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমরা ভোট গ্রহণের তারিখ পেছানোর সুপারিশ করবো।
তিনি বলেন, এখনও তো এক মাস সময় আছে। হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। মূলত: অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।
আগামী ২৮ জুলাই মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর আসনে ইভিএম পদ্ধতিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ও ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি।
সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচনে ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন ৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী জুনায়েদ মুহাম্মদ মিয়া।
তবে ফাহমিদা হোসেন লুমা এবং শেখ জাহেদুর রহমান মাসুম নামে স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও মনোনয়নে ভোটারদের তথ্য যথাযথ না পাওয়ায় ফাহমিদা ও মাসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
বহাল থাকা ৪ প্রার্থীর প্রার্থীর মধ্যে শুক্রবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।
প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব নৌকা, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক লাঙ্গল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক বিএনপি নেতা শফি আহমদ চৌধুরী মোটরগাড়ি (কার) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া ডাব প্রতীক পেয়েছেন। এর মধ্যে শফি আহমদ চৌধুরী ছাড়া বাকি ৩ জন পেয়েছেন দলীয় প্রতীক।
প্রতীক পেয়েই আসনজুড়ে চষে বেড়াচ্ছেন সকল প্রার্থী। করোনাকালীন পরিস্থিতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েত করে প্রার্থীদের সমর্থক-কর্মীরা করছেন মিছিল-সমাবেশ ও মোটরসাইকেল শোডাউন। এতে সিলেটে করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনের এমপি আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী চলতি বছরের ১১ মার্চ করোনায় সংক্রমিত অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। এরপর ১৫ মার্চ এটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।