পটুয়াখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্কুল শিক্ষার্থীকে মারধর, গুরুতর আহত 

পটুয়াখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্কুল শিক্ষার্থীকে মারধর, গুরুতর আহত 
ছবি: সংগৃহীত

মু. হেলাল আহম্মেদ রিপন,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি।।পটুয়াখালী'র রাঙ্গাবালী  উপজেলার বড়বাইশদা ইউনিয়নের চরগঙ্গা গ্রামে সরকার কতৃক বন্দোবস্ত জমি জবরদখলের পায়তারা এবং পূর্ব শত্রুতার প্রতিশোধ নিতে স্কুল পড়ুয়া সম্পা আক্তার(১৪) নামের  শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

গত(২৯ জুন) বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬.০০ টায় রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা ইউনিয়নে ৫ নং ওয়ার্ডে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে একই এলাকার আলমগীর মোল্লার ভাড়াটিয়াগুন্ডা  গ্রাম পুলিশ ইসমাইল গাজীর নেতৃত্বে  ৮ থেকে ১০ জন যুবক অতর্কিত হামলা চালায় অসহায় হতদরিদ্র বিধবা রেনু বেগমের বাড়ীতে। এসময় হামলায় গুরুতর আহত হয় রেনু বেগমের নান্তী সম্পা আক্তার (১৪) নামের স্কুল শিক্ষার্থী মারধর করা হয়। এসময় স্বজনরা তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

আহত ভুক্তভোগী সম্পা আক্তারের 'মা' অহিদা বেগম বলেন, আমাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তিতে দির্ঘদিন যাবৎ আমরা বসবাস করে আসছি। গত ২৯ জুন আমার কিশোরী মেয়ের উপর অর্তকিত হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। উল্লেখিত ব্যক্তিরা হামলার সময় ঘর বাড়ি লুটপাট করে নগদ অর্থসহ স্বর্ন অলংকার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। 

তিনি আরো বলেন, থানায় অভিযোগ করলে উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনরূপ প্রতিকার না পাওয়ার দৃশ্য গুলো চিরন্তন বলে বিজ্ঞ আদালতের সরোনাপন্ন হই। এবং গত ৩০শে জুন, মো,আলমগীর মোল্লা পিতা,আবদুল বারেক মোল্লা,মোসাঃ ফাতেমা ওরফে রেনু বেগম,স্বামী মো,আলমগীর মোল্লা,আবু সুফিয়ান পিতা,শফি উদ্দীন তালুকদার, সহিদুল ইসলাম হাং, পিতা,ওসমান হাওলাদারকে আসামী করে গলাচিপা  বিজ্ঞ আদালতে মামলা রুজু করি। যার মামলা নং দেং মোং নং৩০৩/২২ ইং।


মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীরা সাবেক জেলা বাখেরগঞ্জ হালে জেলা পটুয়াখালী স্টেশন ও সাবেক সাবরেজিস্টার অফিস সাবেক গলাচিপা হালে স্টেশন রাঙ্গাবালী অধিনে ১৫২ নং জে,এল মধ্যে চরগঙ্গা মৌজার এসএ ১ নং খতিয়ানের ৪২৬ নং দাগের ১একর ৫০ শতাংশ ভুমি সরকার হইতে ভুমিহীন কৃষক সাব্যস্থে বন্দোবস্ত কেসে পত্তন পাওয়ার জন্য বুরজুক আলী ১১৮৮জি/১৯৮৮-৮৯ নং বন্দোবস্ত কেস রুজু করিয়া সরকার কৃতক দখল প্রাপ্ত হইয়া তাহাতে বসত ঘর নির্মান করে স্বপরিবারে ভোগদখল করে আসছে।

এবিষয় মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমার বাপের ভিটায় তারা জোর করে বসত ঘর নির্মান করলে আমি তাদের বাধা দেয়ার এক পর্যায় মারামারি শুরু হয়।তাছাড়া আমি তো সাংবাদিকদের বলিনি এবং আপনাদের কোন কথার উত্তর আমি দিতে পারবোনা। আমি এখন ব্যস্থ আছি বলে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেয়।


সার্বিক বিষয় বড়বাইদিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো,ফরহাদ হোসেন এর মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করলেও ফোনটি রিসিভ হয়নি। তবে ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো,বেল্লাল হোসেনের কাছে ফোন করলে তিনি জানান,আমি বিষয়টি জানি কিছুদিন আগে তহসিলদার সাইফুল ইসলাম ঐ জমি মাপতে আসেন আমি খবর পেয়ে স্থানে আসি। জমি মাপার বিষয় জানতে চাইলে তহসিলদার বলেন ইউ,এন,ও মাপতে বলেছে এই বলে আমার কাছে সাক্ষর চান আমি একতরফা বিষয়টি দেখে চলে আসি। তিনি আরো বলেন, আলমগীর মোল্লার স্ত্রী বানিয়ে ঐ জমি দখলের পায়তারা চালাচ্ছে এটা এলাকার একাধিক ব্যক্তির মুখে আমি শুনেছি বলে জানান। 

এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো, মাসফাকুর রহমানের অফিস কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে  তিনি দৈনিক বাংলাদেশ কন্ঠ ও দৈনিক বরিশাল সমাচারকে জানান,অনিয়মের কোন প্রকার সুযোগ নেই। এই বলে ভুমি অফিসের তহসিলদার সাইফুল ইসলামকে ফোন করে বলেন রেনু বেগমের বন্দোবস্তের বাতিলের দরখাস্তে সুপারিশ করা হলো আপনি প্রয়োজনিয় ব্যবস্তা নিন বলে সংবাদকর্মীদের জানান।