পরকিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা চল্লিশোর্ধ্ব নারীকে বিয়ে করতে বাধ্য হলেন নরসিংদীর শ্রমিক লীগ নেতা

পরকিয়ায় অন্তঃসত্ত্বা চল্লিশোর্ধ্ব নারীকে বিয়ে করতে বাধ্য হলেন নরসিংদীর শ্রমিক লীগ নেতা
ছবিঃ সংগৃহীত

মনির হোসেন শাওন।।  নরসিংদী।। নরসিংদীর, মনোহরদী পৌরসভার সল্লাবাইদ গ্রামের লাইলী বেগম (৪২) সাথে পরকীয়ায় গর্ভধারনের পর বিয়ে করতে বাধ্য হলেন মনোহরদী উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও রয়েল মনোহরদী (প্রাঃ) লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন কাঞ্চন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারি ও পরকীয়ার অভিযোগ রয়েছে। লাইলী বেগম সল্লাবাইদ গ্রামের ফেলাল উদ্দিনের মেয়ে। লাইলী বেগমের স্বামী প্রবাসী মোঃ আক্তার হোসেন জীবিকার তাগিদে বিশ বছর আগে সৌদি আরব যান। পঁচিশ বছর আগে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

লাইলী বেগমেনর বড় ছেলে শুভ স্নাতক এবং ছোট ছেলে টুটুল উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে অধ্যায়ন করছেন । প্রবাসী আক্তার হোসেনের স্ত্রী লাইলী বেগম শাখাওয়াত হোসেন কাঞ্চনের সাথে বিগত পাঁচ বছর যাবত অবৈধ শারিরীক সম্পর্ক ও পরকীয়া করে আসছে। কিন্তু শাখাওয়াত হোসেন কাঞ্চন মনোহরদী উপজেলা শ্রমিকলীগের প্রভাবশালী নেতা ও সভাপতি হওয়ায় এলাকাবাসী ভয়ে মুখ খুলতে পারে না। বিগত দুই বছর যাবত লাইলী ও কাঞ্চনের অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি এলাকাবাসী ও লাইলির দুই ছেলে অবগত হন। কাঞ্চন লাইলী বেগমকে বিয়ের প্রলোভন ও ছেলেদের সরকারি চাকরি দিয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে লাইলী বেগমের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন । প্রবাসী আক্তার হোসেন বাংলাদেশে আসার পর তার স্ত্রী কে কাঞ্চনের সাথে অবৈধ পরকীয়ায় সম্পর্ক সমন্ধে জিজ্ঞাসা বাদ করেন এবং বিদেশ থেকে তার কষ্টে উপার্জিত অর্থের হিসাব চান। তখন লাইলী বেগম স্বামী আক্তারের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে আক্তারকে মারধর করে।

এ বিষয়ে এলাকায় জানাজানি হলে লাইলী বেগমের স্বামী এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে নালিশ করেন। কিন্তুু কাঞ্চন এলাকার প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় কারনে এলাকাবাসী কোন সমাধান দিতে পারেনি।পরবর্তীতে লাইলী বেগমের স্বামী আক্তার হোসেনকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেয়। কাঞ্চনের ছেলে হৃদয় ও বড় স্ত্রী ফরিদা পারভীন দীপু লাইলী বেগমের বাড়ির আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং এলাকা এলাকাবাসী লাইলীর বাড়ি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে । এই ঘটনার পর কাঞ্চন লাইলী থেকে কিছুদিন দূরে থেকে আবার ও পুনরায় পরকীয়া ও অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হন। এর কিছু দিন পর লাইলী বেগমের আন্তীয় স্বজনেরা লক্ষ্য করে যে লাইলী বেগমের মাঝে শারীরিক পরিবর্তন আসতেছে এবং লাইলী বেগম অসুস্থ বোধ করে,পরবর্তীতে তারা জরুরীভাবে লাইলীকে ডাক্তারের কাছে নিলে ডাক্তার পরীক্ষা নিরিক্ষায় মাধ্যমে বুজতে পারে লাইলি বেগম সাড়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা । এর পরই এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়, এবং লাইলী বেগম এলাকায় গন্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে যায় এবং নিজের গর্ভের বাচ্চার স্বীকৃতি চান এবং সঠিক বিচার দাবি করে,বিচার না পেলে আত্মহত্যা করবে এমনও হুমকি দেয়।

ততক্ষণে বিপদে পরার শঙ্কা বুঝতে পেরে কাঞ্চন গত মঙ্গলবার রাতে মনোহরদী বাসটার্মিনালের পাশের নূরুল ইসলাম বাচ্ছুর কাজী অফিসে লাইলী বেগমকে সাড়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ইসলামী শরীয়ত অমান্য করে পাঁচ লক্ষ টাকা দেন মোহর করে বিয়ে করেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, সাখাওয়াত হোসেন কাঞ্চন সহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক নারী ক্যালেঙ্কারী,বিয়ে ও অর্থ আত্মসাৎ, ভূমি দালালি প্রমান রয়েছে এবং একাধিক বার থানা,পুলিশ,কোর্টের দারস্থ হতে হয়েছে কিন্তু বার বার অবৈধ টাকায় মাধ্যমে ছাড় পেয়ে যাওয়াতে তাদের সাহস দিন দিন বেড়েই চলেছে,শ্রমিকলীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় আমরা মুখ খুলতে পারছিনা,আমরা মনোহরদী-বেলাব আসনের সংসদ সদস্য নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের দৃষ্টি আর্কষন করছি দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন কারীকে তদন্তের মাধ্যমে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কিছু বছর পূর্বে কাঞ্চনের বড় মেয়ে সাকিলা আক্তার চুমকিকে বিয়ে দেয় নরসিংদী সদরের এক সৌদিপ্রবাসীর কাছে,টিপু জামান নামের সেই প্রবাসীর মেয়ের জামাইয়ের কাছ থেকেও কাঞ্চন বিপুল পরিমান টাকা আত্মসাৎ করেন যা নিয়ে কোর্টে মামলাও করেন,টিপু জামান,এই টাকার শোকে কিছুদিন পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। লাইলীর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী আক্তার হোসেন বলেন,আমার সারা জীবনের কষ্টে উপার্জিত টাকালা লাইলী আত্মসাৎ করেছে। কাঞ্চন আমার সংসার নষ্ট করেছে,আমার অর্থ নষ্ট করেছে,স্বর্ণ অলংকার লুট করেছে, আমার দুইটা ছেলে আছে,আমি ওনার ভয়ে মুখ খুলতে পারিনা,আমি আমার অর্থ ফেরত চাই,এবং সঠিক বিচার চাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে , লাইলী বেগম কে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন রিসিভ করে কথা না বলেই কেটে দেন। অভিযুক্ত শ্রমিকলীগ নেতা কাঞ্চন মিয়াকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

শরীয়তের বিধি অমান্য করে বিয়ে পড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না,,তাদের বিষয় তাদেরকেই জিজ্ঞেস করেন। তারা রাজনীতি করে বুঝতেই পারছেন এখানে আমার অফিস আছে। যদি খুব বেশি দরকার হয় তাহলে উনাদের সামনে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেন।