প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পিআইও বিজন খরাতির বিরুদ্ধে

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পিআইও বিজন খরাতির বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি।। নলছিটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বিজন কৃষ্ণ খরাতির বিরুদ্ধে গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঘরের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

পিআইও হিসেবে নলছিটিতে যোগদানের পর থেকেই একাধিক প্রকল্পের কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ, প্রকল্পের কাজ না করে চেয়ারম্যান-মেম্বরদের সাথে ভাগবাটোয়ারা ও নগদ টাকার বিনিময়ে কাজের বিল প্রদানসহ নানা অভিযোগও রয়েছে।

তার এ দূর্নীতি-লুটপাটের বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবগত থাকলেও রহস্য জনক কারনে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন না বলেও অভিযোগে জানাগেছে।
     অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে 'জমি আছে ঘর নেই, নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নলছিটি উপজেলায় ৩৪টি ঘর নির্মাণের অনুমোদন প্রদান করা হয়। প্রতিটি ঘরের জন্য
বরাদ্দ ছিলো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। নলছিটির পিআইও বিজন কৃষ্ণ বরাদ্দকৃত ৩৪টি ঘরের মধ্যে কাগজকলমে তালিকা দেখিয়ে ৭টি ঘরের টাকা সম্পূর্ন আত্মসাৎ
করেছেন। বাকী ২৭টি ঘর খুবই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বসবাসের অনুপোযোগী তৈরী করলেও তিনি মোটা অংকের পার্সেন্টিজ নিয়ে বিলপ্রদান করেন।
    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের পাওতা গ্রামের পারুল, তৌকাঠি গ্রামের গোলাম হোসেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আকলিমা,
বারাইকরন গ্রামের নজরুল ইসলাম মাঝি ও কাপরকাঠি গ্রামের আনোয়ার ফকির, মগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ মগড় গ্রামের মৃত লিয়াকত আলি মাঝির স্ত্রী নাজমিন,
দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠি গ্রামের শারমিন বেগমের নামে ঘর বরাদ্দ থাকলেও অসহায় এ পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত। অথচ কাগজে
এদের নাম দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতির বিরুদ্ধে। নামে কাগজ-কলমে ঘর বরাদ্দ হলেও বাস্তবে তারা কোন
ঘর পায়নি। এছাড়াও দক্ষিণ মগড় গ্রামের বাসিন্দা অসহায় নাজমিন আক্ষেপ করে বলেন, আমার
স্বামী নেই, বাচ্চাদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাই। একটি ঘর করে দিবে এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে ৪০ হাজার টাকা দিলেও ঘর পাইনি। এখন তিন সন্তান নিয়ে এখানে বৃষ্টিতে ভিজে দিন কাটাচ্ছি।
    বারাইকরন গ্রামের বাসিন্দা মৃত. বীর মুক্তিযোদ্ধা কাঞ্চন আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম মাঝি বলেন, আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় আমাদের একটি ঘর দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দেয়া 'জমি আছে ঘর নাই' প্রকল্পের আমার নামে একটি ঘরটি বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। তাহলে সে ঘরটি গেল কোথায়?
   ভরতকাঠি গ্রামের শারমিনের স্বামী শহিদ জানান, তাকে কোন ঘর দেয়া হয়নি। প্রকল্প কর্মকর্তা তাকে বলেছে পরবর্তীতে ঘর আসলে তাকে ঘর দেয়া হবে।এখন
শুনছি ঘর বরাদ্দের তালিকায় আমার নাম আছে। আমি জানতে চাই তাহলে সেই ঘরটি কোথায়?

   অন্যদিকে মগড় ইউনিয়নের খাওক্ষীর গ্রামের মেরি বেগম সহ ঘর পাওয়া বেশ কয়েকজন জানায়, বহু দৌড়-ঝাপের পরে গৃহহীনদের জন্য জমি আছে ঘর নাই
প্রকল্পের একটি ঘর পেয়েছি। তবে এসব ঘরের মেঝে, দরজা-জানালা ও টিন এতো নিন্ম মানের যে তা বসবাসের অনুপযোগী।
   বিধি অনুযায়ী ইউপি চেয়ারম্যানেরা ঘরগুলো নির্মান করলেও এগুলো যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও মান নিশ্চিত করনের দায়িত্ব প্রকল্প কর্মকর্তা নলছিটির পিআইও
বিজন কৃষ্ণ খরাতির। তবে পিআইও বিজন খরাতি অফিসে বসে নগদ টাকা ভাগাভাগি করেই বিল প্রদান করেছেন।
   এ বিষয়ে নলছিটি প্রকল্প কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতি বলেন, এ প্রকল্পের সব ঘরের বিল পরিশোধ করা হয়নি প্রতি ঘর বাবদ ৪০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে
বাকী টাকা পরে দেয়া হবে। কিন্তু সরেজমিনে পরিদর্শন না করে, কাজ না দেখে কিভাবে টাকা দিলেন প্রশ্ন করলে তিনি চুপ করে থাকে।
   বরাদ্দকৃত ঘরের বাকি টাকা কোথায় প্রশ্নে তিনি বলেন, ওই টাকা ফেরত দেয়া হবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই অর্থ বছর পর কিভাবে টাকা ফেরত দিবেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তোর দিতে পারেনি। তালিকাভূক্ত ৭জন কোন ঘর পায়নি বলে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কলটি কেটে দেন।
   এ প্রকল্পের দূর্নীতি-লুটপাটের বিষয়ে তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুম্পা সিকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয় কিছুই জানেননা বলে দাবী করেন। ৭টি ঘরের অর্থ সম্পূর্ন লোপাট ও ২৭টি ঘরের
নিন্মমানের কাজকর্ম সম্পর্কে জানালে তিনি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
   ঝালকাঠি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল হক বলেন, এ বিষয় আমার জানা ছিল না। এখন আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমি অবশ্যই
তদন্ত করে দেখবো।