পরিবহন ধর্মঘটে প্রভাব পড়েনি কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে 

পরিবহন ধর্মঘটে প্রভাব পড়েনি কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে 
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ৬ নভেম্বর।। পরিবহন ধর্মঘট চললেও কক্সবাজারে অবস্থান করছে ভ্রমণে আসা ১ লাখের অধিক পর্যটক। শুক্রবার দিনগত রাত ২টার দিকে ২০/৩০ পর্যটকবাহী বাস কক্সবাজার ডুকেছে।

শনিবার বিকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্য সময়ের মতো পর্যটকেরা সৈকতে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁদের মাঝে পরিবহন ধর্মঘটের কোন চাপ দেখা যায়নি। খারাব হোটেল, সৈকতের দোকানপাটগুলোতে বেচা বিক্রি স্বাভাবিক রয়েছে। 
সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলি পয়েন্টে পর্যটকের উপচে পড়া ভীড় সেই আগের মতোই দেখা গেছে।
এরআগে আসা পর্যটকদের কেউ কেউ কখন বাড়িতে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে আটকা পড়া পর্যটকদের বাড়ি পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। শনিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে পুলিশি পাহারায় পর্যটকদের বাস পার করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার পূজার ছুটিসহ সাপ্তাহিক ছুটির ফাঁদে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আগমন ঘটে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের।
জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধির প্রতিবাদ ও বাসভাড়া বাড়ানোর দাবিতে গত শুক্রবার ভোর ছয়টা থেকে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। এতে কক্সবাজারে আটকা পড়েছেন লাখের বেশি পর্যটক। তবে এই পরিবহন ধর্মঘট কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে কোন প্রভাব পড়েনি বলে জানান অনেকে। 
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন,
কক্সবাজারে বর্তমানে ১ লাখ ১০ হাজারের মতো পর্যটক অবস্থান করছেন। এর মধ্যে গত শুক্রবার ভোরে ৪ শতাধিক বাসে ৩০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। শতাধিক পিকনিক বাসের কক্সবাজার ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু পথে ভাঙচুরের শিকার হতে পারে বাস, এমন শঙ্কায় গাড়ি বের করতে চাচ্ছেন না চালকেরা।
এ ছাড়া ৫ শতাধিক বাসে আরও ১০ হাজার পর্যটকের কক্সবাজার ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে আতঙ্কে আছেন তাঁরা। বাস চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে আছে দুশ্চিন্তাও।
কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস পাড়া কটেজ ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম খোরশেদ বলেন, শুক্রবার দিনগত রাত ২টার দিকে ৫০টি পর্যটকবাহী পিকনিক বাস কক্সবাজার ডুকেছে। তারা বিভিন্ন কটেজ, গেস্ট হাউজ ও হোটেলে উঠেছে।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে আটকা পড়া পর্যটকদের পুলিশি পাহারায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার পথে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শনিবার সকাল থেকে জেলা পুলিশ এ উদ্যোগ নিয়েছে। কোনো পর্যটক কক্সবাজারে আটকা পড়লে ও বাড়িতে ফিরতে সমস্যা হলে কক্সবাজার পুলিশ লাইনে যোগাযোগ করলে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে দেবে পুলিশ। বিকালে পর্যটকবাহী পুলিশ বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের সহায়তায় নিজস্ব পরিবহনে কোন প্রকার ভাড়া ছাড়া চট্টগ্রাম জেলায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে। 
সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধভাবে বাস রাখা হয়েছে। বিভিন্ন কাউন্টারেও বাসের রয়েছে সারি। যাত্রীরা কাউন্টারে গিয়ে ফেরত যাচ্ছেন। তবে অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলছে। অনেক পর্যটক বিমানে ও অটোরিকশায় চট্টগ্রামে গিয়ে সেখান থেকে ট্রেনে করে বাড়িতে ফিরছেন। কক্সবাজার শহর থেকে রামু ও ঈদগাঁও এবং ঈদগাঁও থেকে চকরিয়া পর্যন্ত অটোরিকশা, ইজিবাইক, মাইক্রোবাসে চড়ে মানুষ গন্তব্যে যাচ্ছেন। এসব পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার (এসপি) জিল্লুর রহমান জানান, পর্যটকেরা সৈকতে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা হয়তো পরিবহন ধর্মঘটের কথা জানেন না। তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা যায়নি।