পর্যটকরা কক্সবাজার ঢুকলেই পৌঁছে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সতর্ক বার্তা

পর্যটকরা কক্সবাজার ঢুকলেই পৌঁছে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সতর্ক বার্তা
ছবিঃ সংগৃহীত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার, ৩ নভেম্বর।। কক্সবাজারে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় হার্ডলাইনে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। একইসঙ্গে কাজ করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। অন্য বছরের তুলনায় চলতি বছর প্রতিটি পর্যটন স্পটে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সাথে পর্যটকরা কক্সবাজার ডুকলেই মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে মুহুর্তে পেয়ে যাচ্ছে নানান সর্তকতা মুলক বার্তা।

গত ২ নভেম্বর রাতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত গনমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়ন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসপি জিল্লুর রহমান তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ‘পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় আমরা খুবই সতর্ক। পর্যটকরা যেন কোনোভাবেই হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম পর্যায়ক্রমে সমুদ্র সৈকতসহ আশাপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন।

সমুদ্র সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ ১১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্যকেন্দ্র (ইনবক্স)। যেকোনও অভিযোগ এখানে করতে পারবে পর্যটকরা। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে একটি হটলাইন নম্বর-০১৭৩৩৩৭৩১২৭।’ ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান আরও বলেন, ‘ পর্যটকদের নিয়ে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনায় আমরা দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি। যা এখনও তদন্ত চলছে এবং অনেক আসামি কারাগারে রয়েছে। এরপরও আমাদের বাড়তি সতর্কতার দরকার। এ কারণে পুরো জেলায় সব পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা। এছাড়া বিচ বাইক, বাইসাইকেল, জেডেস্কি টহলসহ বিভিন্নভাবে পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

শুধু কক্সবাজার সৈকত নয়, এর আশপাশে যেসব পর্যটন কেন্দ্রগুলো আছে যেমন হিমছড়ি, ইনানী, টেকনাফ সেন্টমার্টিন, সাফারী পার্কসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিচ্ছে।’ সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মহি উদ্দীন বলেন, ‘প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম হয়। এতে দু-একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে কোনও সন্দেহ নেই। তবে সব ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্যুরিস্ট পুলিশ হার্ডলাইনে রয়েছে।’ ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নে ২২৩ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। পর্যায়ক্রমে ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্য বাড়ানো হবে বলে জানানো হয়।

এসময় উপস্থিত গনমাধ্যম প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের এসপি মো. জিল্‌লুর রহমান। মতবিনিময় সভায় ঢাকা ও কক্সবাজারের ৩০ জন গনমাধ্যম প্রতিনিধি অংশ নেন।