প্রেসক্লাব সিন্ডিকেট মুক্ত করে পুর্নগঠনের দাবিতে ঝালকাঠি সাংবাদিক সমাজের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ-লিফলেট বিতরণ

প্রেসক্লাব সিন্ডিকেট মুক্ত করে পুর্নগঠনের দাবিতে ঝালকাঠি সাংবাদিক সমাজের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ-লিফলেট বিতরণ
ছবিঃ সংগৃহীত

ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সিন্ডিকেট মুক্ত করে সকল সাংবাদিকের সমন্বয়ে
পুর্নগঠন ও সিন্ডিকেট কমিটির সেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে জেলার সাংবাদিক
সমাজ ৩ দিনের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু করেছে। গত ২৭ জুন সন্ধ্যায়
এক বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ২৮ জুন থেকে এ কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত
গ্রহন করেছে। পাশাপাশি সিন্ডিকেট কর্তৃক সাংবাদিকদের স্বার্থ বিরোধী
কার্যক্রম, সকল অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকান্ড তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করারও
সিদ্ধান্ত  নেয়া হয়েছে।
ঝালকাঠির এমপি আমির হোসেন আমু এবং জেলা আওয়ামীলীগসহ সুধী সমাজ এ বিষয়টি
সমাধানে উদ্যোগ নিলেও তাদের প্রস্তাবকে কোন গুরুত্ব না দিয়ে অবজ্ঞা করা
হয়েছে। তাই এবার সাংবাদিকরাই সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধানে এ উদ্যোগ নিতে
বাধ্য হয়েছে।
 ইতিমধ্যেই এই সিন্ডিকেট কমিটির প্রতিবাদে মাস ব্যাপি কর্মসূচির অংশ
হিসাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে
মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। ৩দিনব্যাপী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও লিফলেট
বিতরণ শেষে সকল কাগচপত্র প্রধানমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী-সচিব,
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-সচিব এবং বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার-ডিআইজ বরাবরে প্রেরন,
সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে সভা, কালোব্যাজ ধারন,
মৌনমিছিল ও সমাবেশসহ অন্যান্য কর্মসূচী পালন করা হবে।
কর্মসূচি পরিচালনা কমিটির সাংবাদিকরা জানান, যদি প্রেসক্লাবের পক্ষ  থেকে
স্বেচ্ছায় এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ না  নেয়া হয় তাহলে আরো কঠোর কর্মসূচি নেয়া
হবে। যে জেলায় প্রেসক্লাবের কমিটির বিরুদ্ধে এভাবে কর্মসূচি নেয়া হয় ঐ
ক্লাব পরিচালনা কমিটির অনিয়ম ও দূর্নীতি এবং গ্রহনযোগ্যতা কোন পর্যায়ে তা
সহজেই অনুমেয়।
তারা আরো জানান, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ শেষে বিস্তারিত ভাবে সংশ্লিষ্ট
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হবে। ইতিমধ্যেই জেলার সাংবাদিকরা এসব
বিষয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছে।
পর্যায়ক্রমে ১ মাসের কর্মসূচি শেষ করে সাংবাদিকরাই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত
বাস্তবায়ন করবে। যাতে এই সিন্ডিকেট তখন কারো দ্বারস্থ হয়ে সাংবাদিকদের
বিষয়ে মিথ্যা অপবাদ বা অভিযোগ করে ফায়দা লুটতে না পারে।
উল্লেখ্য ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের কিছু সাংবাদিক সিন্ডিকেট করে দীর্ঘ দিন
ধরে পালাক্রমে পকেট কমিটি করে ফায়দা হাসিল করছে। সম্প্রতি প্রেসক্লাবের
পাতানো নির্বাচনে ক্লাবের কয়েক সদস্য প্রতিবাদ করে নির্বাচন কমিশনকে
লিখিত ভাবে অনিয়ম তুলে ধরলেও তা অবজ্ঞা করা হয়।
অথচ ঝালকাঠিতে কর্মরত বেশির ভাগ সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবের সদস্য না করে
সংগঠনে সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কয়েকজন কুক্ষিগত করে ব্যক্তিস্বার্থ
চরিতার্থ করছে। যে সকল সদস্যরা তাদের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করছে বিভিন্ন
অযুহাতে তাদের শোকজ, সদস্যপদ বাতিল ও বহিস্কার করে হয়রানী করছে।
প্রেসক্লাবকে কুক্ষিগত করে এহেন ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার বিরুদ্ধে
ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাংবাদিক সমাজ রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচী পালন করছে।