পলাশবাড়ীতে তরমুজ নিয়ে ফল ব্যবসায়ীদের কারসাজি : সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ 

পলাশবাড়ীতে তরমুজ নিয়ে ফল ব্যবসায়ীদের কারসাজি : সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ 
ছবিঃ সংগৃহীত

আবু তাহের।। স্টাফ রিপোর্টার।। ২৭ এপ্রিল, মংগলবার।। গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ পিস হিসাবে ক্রয় করে তরমুজ কেজি দরে বিক্রি করায় নিন্ম ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে ইচ্ছা থাক‌া স্বত্বেও ক্রয় ক্ষমতার বা‌হি‌রে দাম হওয়ায় হতাশ ম‌নে ফির‌ে যাচ্ছে অনেকে ক্রেতা। প্রচন্ড গরম এবং মৌসুমের শুরু থেকেই তরমুজের দাম চড়া। তবে রমজান আর বৈশাখের খরতাপকে কেন্দ্র করে সবুজ তরমুজেও আগুন লেগেছে। যে আগুনে নিম্ম মধ্যবিত্ত তো দূরের কথা, মধ্যবিত্তরাই পুড়ে ছারখার। অথচ দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে ইফতারের প্রধান উপকরণ হওয়ার কথা তরমুজ। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই তরমুজ এখন কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এই সুযোগে বিক্রেতাদের মুনাফা এখন চরমে।

২৬ এপ্রিল সোমবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরশহরের চৌমাথা ও বিভিন্ন মোড়ের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজের দামের বিশাল ফারাক। গত ১-২ বছর আগেও যেখানে তরমুজ পিচ হিসাবে কিনতে পাওয়া যেতো। এখন সেখানে এক কেজি তরমুজের দাম চলছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বর্তমানে। বেশি ভালো মানেরগুলো ৬৫ থেকে ৭০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫ কেজির একটি তরমুজের জন্য ক্রেতাকে গুণতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এছাড়া ৮/১০ কেজি একটি তরমুজ ওজন ছাড়া আগে বিক্রি হতো ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। যা এখন ওজনে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। অথচ এই তরমুজের দাম ১৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। প্রতি তরমুজ কমপক্ষে ১০০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। এতো ভারী একটি ফল ছোট পরিবারের জন্য কিনতে গেলেও ৫ কেজির নিচে হয় না।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ প্রতিবেদককে জানান, মৌসুম শেষ হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকের ক্ষেতের তরমুজ বিক্রি প্রায় শেষের পথে। ফলে হঠাৎ করে এর চাহিদা বেড়ে গেছে। অপরদিকে, প্রচন্ড গরম এবং রমজান চলমান থাকায় মানুষ ঝুঁকে পড়েছে তরমুজের দিকে। তবে বাজারে গিয়ে অনেক ক্রেতা হোচট খাচ্ছে তরমুজের দাম শুনে।এদিকে, ওজনে তরমুজ বিক্রি করা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বাক-বিতন্ডা হওয়ার খবরও মিলেছে। এতে ক্রেতা-বিক্রেতারা উভয় পক্ষই বিপাকে জড়িয়ে পড়ছেন।

এ ব্যাপারে তরমুজ ক্রেতা মো; হায়দার আলী জানান, রমজান বলে তরমুজ কিনেছি। তবে ওজনে জীবনে এই প্রথম কিনলাম। সাজ্জাত নামে আরেক ক্রেতা জানালেন, ১৫ দিন আগে যে সাইজের তরমুজ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় কিনেছি, বর্তমানে ওজনে তা ৩০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। 

পৌরশহরের চৌমাথার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা জানান, ক্ষেতে তরমুজ নাই, আগের চেয়ে বেশী দামে কিনতে হচ্ছে। এতে ওজনে বিক্রি না করে আগের মত প্রতি পিস হিসেবে বিক্রি করলে আসল টাকা উঠবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অপর এক বিক্রেতা জানান, ওজন ছাড়া বিক্রি করলে অর্ধেক দামও পাওয়া যাবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

ক্রেতাসাধারণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের জানান, ওজনে তরমুজ বিক্রি শুরু করায় তরমুজ প্রিয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে ওজনে তরমুজ বিক্রি বন্ধের দাবি জানান এবং সু-নির্দ্দিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অপরদিকে এমন পরিস্থিতিতে দেশের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে অনেকে ক্ষোভ ঝাড়ছেন। পরিবারের জন্য প্রিয় ফলটি না কিনতে পেরে হতাশায় ভুগছেন। মৌসুমি এই ফলটির পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকে কেজি দরে তরমুজ বিক্রিকে ভোক্তাদের সঙ্গে বড় রকমের প্রতারণা ও চালবাজি আখ্যায়িত করছেন। কেজিদরে তরমুজ কিনতে চাচ্ছেন না তারা। কেউ কেউ ‘আঙুর ফল টক’ উপকথার মতো তরমুজ বয়কটের শ্লোগান দিচ্ছেন। অনেকেই বলছেন এতো টাকা দিয়ে তরমুজ খাওয়ার প্রয়োজন! কেউ বলছেন, ওজনে বিক্রি করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা ব্যবসায়ীদের পুরাতন অভ্যাস। মানছেন না পবিত্র রমজান মাসও।