পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের পরিপূরক: আরপিএমপি কমিশনার

পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের পরিপূরক: আরপিএমপি কমিশনার

তৌহিদুল ইসলাম, নিউজ করেসপনডেন্ট।। মানুষকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের জন্য সাংবাদিকরা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কমিশনার নুরেআলম মিনা। 

তিনি বলেছেন, পুলিশ ও সাংবাদিক একে অপরের পরিপূরক। সাংবাদিকরা বিভিন্ন ঘটনা তুলে আনেন এর মাধ্যমে অপরাধ দমনে পুলিশ ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের জন্য সাংবাদিকরা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। পুলিশ ও সাংবাদিকের পেশাগত লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। উভয়েই জনগণের স্বার্থে দেশের জন্য কাজ করে থাকেন।

বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরপিএমপির সম্মেলন কক্ষে রংপুরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পুলিশ কমিশনার এসব কথা বলেন। 

নুরেআলম মিনু বলেন, সাংবাদিকরা গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশকে উত্তরোত্তর উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে চলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন। পুলিশকে সঠিক তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করে আরও বেশি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সহযোগিতা করবেন। কারণ সমাজের সকল অসঙ্গতিকে সামনে নিয়ে এসে সমাধানের পথ তৈরি করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম।

পরিকল্পিত নগরায়নে সিটি করপোরেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, নির্মাণাধীন ভবনে পার্কিং স্পেস না রাখা, সক্ষমতার চেয়ে বেশি অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদান, ফুটপাত ব্যবহার উপযোগী না থাকা, অভ্যন্তরীণ রাস্তার যথাযথ সংস্কার না করা, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থাসহ নগর পরিকল্পনার অন্যান্য বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনকে গুরুত্ব দিতে হবে। আরপিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রতিটি সদস্য দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সঙ্গে নগরবাসীর সহযোগিতা এবং সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মানুষের আকাঙ্খা পূরণে সক্ষম হবে।

এ সময় আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত হওয়া, মানুষকে নির্যাতন করা থেকে বেরিয়ে আসা, মাদকের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা, বিট পুলিশিং চালু করা ও কর্মরত অবস্থাতেই পুলিশের কল্যাণ নিশ্চিতে আরপিএমপি কাজ করছে বলেও জানান পুলিশ কমিশনার নুরেআলম মিনু।  

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা রংপুর মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ দমনে করণীয়সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এর মধ্যে মাদক, চুরি-ছিনতাই রোধসহ ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতিকরণ, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুইপাশ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, যানজট নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ যানবাহন চলাচল রোধ, অপরাধ দমন ও অপরাধী দ্রুত শনাক্তে নগরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সংখ্যা বাড়ানো ও আইন মেনে চলার ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সাংবাদিক নেতারা।

সভায় বক্তব্য দেন রংপুরের সিনিয়র সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদল, আফতাব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, প্রেসক্লাব রংপুরের সভাপতি মাহবুব রহমান হাবু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মানিক, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক শিমুল ইসলাম, মাহিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবলু নাগ, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ বায়েজীদ আহমেদ, দাবানলের নির্বাহী সম্পাদক সুশান্ত ভৌমিক, বার্তা ও পরিকল্পনা সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক প্রমুখ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আরপিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মেহেদুল করিম, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মহিদুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান, উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) আবু বকর সিদ্দীক, উপ-পুলিশ কমিশনার (এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) আবু সাইম, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মেনহাজুল আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ।  

উল্লেখ্য, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) দ্বিতীয় পুলিশ কমিশনার হিসেবে গত ৩১ জুলাই যোগদান করেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক নুরেআলম মিনু। এর আগে তিনি ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।