ফাতেমা'র সন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে স্বস্তিতে পরীক্ষার সুযোগ করে দিলেন জবি শিক্ষক

শিশুটির মায়ের ইনকোর্স (মিডটার্ম) পরীক্ষা ছিল। সন্তান ছোট হওয়ায় প্রথম মিডটার্মে অংশ নিতে পারেনি ফাতেমা। আজকেও যখন দেখি সন্তানকে সামলে কষ্ট করে পরীক্ষা দিচ্ছে, তখন এগিয়ে গিয়ে তার মেয়েকে কোলে নিই। আমার কোলে আসার পর ভালোভাবেই ছিল।’

ফাতেমা'র সন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে স্বস্তিতে পরীক্ষার সুযোগ করে দিলেন জবি শিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত
জবি প্রতিনিধি।।পরীক্ষার টেবিলে মা। পাশেই বসা এক বছরের ছোট্ট সন্তান। একটু পরপর সন্তান মায়ের পরীক্ষার খাতা টানছে, আবার কলম ধরছে। পরীক্ষার মধ্যেও মায়ের মন সন্তানের জন্য বিচলিত। কখন আবার চোখে কলমে খোঁচা লাগে, কখন পড়ে যায়। অন্যদিকে আবার ঘড়ির কাঁটায়ও তাঁকে চোখ রাখতে হচ্ছে। কারণ, নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা শেষ করতে হবে।
এমন অবস্থা দেখে কোর্স শিক্ষক এগিয়ে এলেন। ছাত্রী ফাতেমা আক্তারের সন্তানকে কোলে নিয়ে ছাত্রীকে স্বস্তিতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দিলেন। পুরো পরীক্ষার সময়টাই শিশুটিকে রাখেন এই শিক্ষক।
গতকাল (মঙ্গলবার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টার শিক্ষার্থীদের ইনকোর্স পরীক্ষায় এমন ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায় সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম ছাত্রী ফাতেমা আক্তারের মেয়ে মারিয়ামকে কোলে নিয়ে হলে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাতে শিক্ষক কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শিশুটির মায়ের ইনকোর্স (মিডটার্ম) পরীক্ষা ছিল। সন্তান ছোট হওয়ায় প্রথম মিডটার্মে অংশ নিতে পারেনি ফাতেমা। আজকেও যখন দেখি সন্তানকে সামলে কষ্ট করে পরীক্ষা দিচ্ছে, তখন এগিয়ে গিয়ে তার মেয়েকে কোলে নিই। আমার কোলে আসার পর ভালোভাবেই ছিল।’
এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ফাতেমার পরিবারের এগিয়ে আসা উচিত। ফাতিমাকে পরামর্শ দিয়েছি পরের পরীক্ষারগুলোর সময় যাতে আগে এসে বিভাগের কোনো জুনিয়র বা সিনিয়রের কাছে মেয়েকে কিছুক্ষণের জন্য রাখতে পারে।’
ফাতেমা আক্তার জানান, ঢাকায় স্বামী, সন্তান ও ননদ নিয়ে থাকেন। ননদ ছোট, স্কুলে পড়ে। আর স্বামী জরুরি কাজে বাইরে থাকায় সন্তানকে বাসায় রেখে আসতে পারেননি। তাই সন্তানকে নিয়েই পরীক্ষার হলে এসেছেন।
সন্তান ছোট থাকায় সেমিস্টারের ক্লাসে নিয়মিত হতে পারেননি উল্লেখ করে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্যার সহযোগিতা করায় পরীক্ষাটা সুন্দরভাবে শেষ করতে পেরেছি। এক বছরের বাচ্চা, চোখের সামনে না থাকলে অন্য কোথাও রেখেও ভরসা পাওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি সুন্দর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে, তাহলে আমার মতো অন্য যাদের ছোট শিশু রয়েছে, তারাও নিশ্চিন্তে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডে-কেয়ার সেন্টার সম্পর্কে জানা আছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় ডে–কেয়ার সেন্টারের পরিচালক আবদুস সামাদ বলেন, ‘করোনা মহামারির বিধিনিষেধ উঠে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীর ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর পর থেকেই ডে-কেয়ার সেন্টার চালু আছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিটি বিভাগে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এখন যদি বিভাগগুলো থেকে এটি যথাযথভাবে প্রচার না করে, সে ক্ষেত্রে বিষয়টি দুঃখজনক। আমাদের ২৫ জন শিশু রাখার ধারণক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১০-১৫ জন সুবিধা নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবারের যেকোনো সদস্য এই সুবিধা নিতে পারবে। প্রয়োজনে তারা খণ্ডকালীন তাদের সন্তানদের ডে–কেয়ার সেন্টারে রাখতে পারবে।’